মেহেরপুরে মাচায় চাল কুমড়ার চাষ করে আশানুরূপ ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যায় চলতি রবি মৌসুমে জেলায় চাল কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। বিষমুক্ত পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব চাল কুমড়া স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে জেলার সবজি বাজারেও তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
মেহেরপুরের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। মাচাজুড়ে ঝুলছে থোকা থোকা চাল কুমড়া। আগে অনেক বাড়ির চালা বা ঘরের ছাদে চাল কুমড়ার চাষ করা হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে মাচা তৈরি করে মাঠে চাল কুমড়ার চাষ করছেন জেলার অনেক কৃষক।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়ার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ মেট্রিক টন কুমড়ার উৎপাদন হচ্ছে। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন চাল কুমড়া উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকেরা জানান, এ বছর চাল কুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে চাহিদা ও দামও ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সন্তোষজনক লাভ থাকছে। সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে পারায় ফলনও আশানুরূপ হয়েছে।
কৃষক কুদ্দুস আলী বলেন, মাচা পদ্ধতিতে এবার আমি দুই বিঘা জমিতে চাল কুমড়ার চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় চাল কুমড়ার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। এতে আমরা কৃষকেরা বেশ খুশি।
আরেক কৃষক বাবলু জানান, মাচায় এক বিঘা চাল কুমড়া চাষে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফলন ভালো হলে লাভও ভালো হয়। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে চাহিদাও রয়েছে। তাই আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা আছে।
কৃষক জব্বার আলী বলেন, মাচায় চাল কুমড়া চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কুমড়া নিয়ে যাচ্ছেন। দাম ভালো থাকায় আমাদের লাভও হচ্ছে।

কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, আগের তুলনায় এখন চাল কুমড়ার চাহিদা বেড়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে ফলন ভালো পাওয়া যায়। বাজারে ভালো দাম থাকলে কৃষকেরা এ চাষে আরও আগ্রহী হবেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত পরামর্শ, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর চাল কুমড়ার উৎপাদন বেড়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, নিয়মিত পরামর্শ, কৃষকদের পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর চাল কুমড়ার উৎপাদন বেড়েছে। কৃষকদের আমরা চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতেও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই মেহেরপুরে বাড়ছে চাল কুমড়ার আবাদ। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা গেলে জেলার বিষমুক্ত এই সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
মাহাবুল ইসলাম/এসএইচএ
