বিজ্ঞাপন

রামেকে অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত, কমবে রোগীর হয়রানি

রামেকে অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত, কমবে রোগীর হয়রানি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও চালকদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়ায় রোগী পরিবহন ও লাশবাহী পরিবহন সেবা প্রদান করবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেখ শামীম আহমেদ এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রামেকহা সভাকক্ষে রোগীদের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক বিশেষ আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন- রামেকহা’র সম্মানিত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম। সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হাসানুল হাছিব।

মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, সভায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রামেকহাতে আগত রোগীদের পরিবহনে নিয়োজিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ির পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রোগীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমানো এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশমুখে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তিনি আরও বলেন, আলোচনা শেষে রামেকহা অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রস্তাবিত এ সেন্টারের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আরএমপির তত্ত্বাবধানে নিবন্ধিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও চালকদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী এবং রোগীর গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়ায় রোগী পরিবহন ও লাশবাহী গাড়ির সেবা প্রদান করবে। এর ফলে রোগীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ কমার পাশাপাশি জরুরি বিভাগের সামনে অপ্রয়োজনীয় যানজট নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সভায় রোগীদের সুবিধার্থে ট্রলি ব্যবস্থাপনা, অতিবৃষ্টির সময় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের সামনের সড়কে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসন ও তাৎক্ষণিক করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় রামেকহা’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রামেক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, সমিতির কোষাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুর্শেদ জামান মিয়া, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম সহকারী পরিচালকবৃন্দ সহকারী অধ্যাপক ডা. আবুল হাসানাত ও ডা. এসআই রবিন, ইএমও ইনচার্জ, উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক, নার্সিং কো-অর্ডিনেটর, ওয়ার্ড মাস্টারবৃন্দ, রামেকহা পুলিশ বক্সের ইনচার্জ, আনসার ক্যাম্প ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এছাড়া আরএমপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) গোলাম রাব্বানী শেখ, রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডা. আয়েশা। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের প্রতিনিধিত্ব করেন মো. নিশান, মো. ডালিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। তারা রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আরএমপির গৃহীত যৌক্তিক সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় রামেকহা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সক্রিয়, আন্তরিক ও সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় তিনি বলেন, রোগীর স্বার্থই সকল পক্ষের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সভায় অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

শাহিনুল আশিক/এসএইচএ