বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বন্ধ রাজবাড়ীর পৌর শিশু হাসপাতাল, পুনরায় চালুর উদ্যোগ

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বন্ধ রাজবাড়ীর পৌর শিশু হাসপাতাল, পুনরায় চালুর উদ্যোগ

এক সময় শিশুদের কোলাহল, চিকিৎসকের ব্যস্ততা আর অভিভাবকদের ভিড়ে মুখর থাকত রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার এলাকার পৌর শিশু হাসপাতাল। অসুস্থ শিশুদের নিয়ে ছুটে আসতেন পৌর এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের অভিভাবকরা। চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ফিরতেন স্বস্তি নিয়ে।

কিন্তু সেই চিত্র এখন অতীত। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হাসপাতালটির চার কক্ষের ভবনটি পড়ে আছে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায়। আশপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা। যেখানে শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা।

তবে দীর্ঘ এই নীরবতার অবসানের আশার আলো দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্ধ থাকা পৌর শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক কল্যাণ চৌধুরী। হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখার পাশাপাশি পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে পৌর প্রশাসক হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, নতুন বাজারে অবস্থিত পৌর শিশু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আমরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। পৌরসভার মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। হাসপাতালটি নিয়ে কী করা যায়, সে বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটি পুনরায় চালু করে পৌরবাসী, বিশেষ করে শিশুদের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পৌর প্রশাসকের এই উদ্যোগে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, শুধু পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কার, চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করা হবে।

রাজবাড়ী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী পৌরসভার উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে নতুন বাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় পৌর শিশু হাসপাতালটি। প্রতিষ্ঠার পর টানা প্রায় ২২ বছর শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এখানে।

হাসপাতালটির সর্বশেষ দায়িত্বে ছিলেন পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রশিদ। ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। এরপর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা।

চিকিৎসক চলে যাওয়ার পর নতুন চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পৌরসভা। ফলে একসময় শিশুদের চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে।

চার কক্ষবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় বর্তমানে অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভবনের আশপাশে আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। নিয়মিত চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় অবকাঠামোরও যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বছরের পর বছর বন্ধ রাখা শুধু অবকাঠামোর অপচয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও। বিশেষ করে শিশুদের জন্য আলাদা একটি চিকিৎসাকেন্দ্র চালু থাকা পৌরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হতে পারে।

শিশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু অনেক সময় সরকারি হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অপেক্ষা, অতিরিক্ত খরচ কিংবা দূরত্বের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

নতুন বাজার এলাকায় পৌর শিশু হাসপাতালটি চালু হলে পৌর এলাকার শিশুদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও সহজলভ্য চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি হবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে

বিজ্ঞাপন