বিজ্ঞাপন

সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি, থমকে আছে শ্রীপুর বাইপাসের কাজ

সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি, থমকে আছে শ্রীপুর বাইপাসের কাজ

মাগুরার শ্রীপুর বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে গেলেও সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ। সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খুঁটি স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক মাস আগে প্রায় ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনো শেষ হয়নি অপসারণের প্রক্রিয়া। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো টেন্ডারই আহ্বান করা হয়নি। এতে ব্যাহত হচ্ছে সড়কের মূল নির্মাণকাজ। এতে বাড়ছে স্থানীয়দের দুর্ভোগ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন শ্রীপুর বাইপাস সড়কের বিভিন্ন অংশে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। কোথাও সড়কের আংশিক কাজ শেষ হলেও খুঁটি না সরানোয় পুরো অংশে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে নির্মাণকাজের গতি কমেছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণের স্বার্থে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের জন্য গত জুন মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে (ওজোপাডিকো) প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাত সুলতানা বলেন, ‘সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের সব প্রস্তুতি শেষ। অথচ রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় কাজ আটকে আছে। রাতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

তবে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রীপুর বাইপাস সড়কে বর্তমানে তাদের মালিকানাধীন কোনো খুঁটি নেই। ১০টি পোল অপসারণের কাজে মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৫ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং সেগুলো আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষ বলেন, প্রয়োজনীয় মালামালের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। মালামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনো টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বানের পরই খুঁটি অপসারণের মূল কাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কের নির্মাণকাজের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটি স্থানান্তরের কাজ সমন্বিতভাবে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দুই সংস্থার কাজের মধ্যে তৈরি হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। এতে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ থমকে আছে।

মাগুরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, ‘গত জুনেই ওজোপাডিকোকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু এতদিন পার হলেও তারা কোনো টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। সড়কের মাঝ থেকে পোল না সরানোয় আমাদের ঠিকাদারি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্তঃসংস্থার সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সড়ক নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকাজের সুফল পেতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

তাছিন জামান/এসএইচএ