দীর্ঘ ৫ দশক ধরে একটি স্থায়ী সড়কের অপেক্ষায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো আর শুকনো মৌসুমে কাঁচা ও দুর্গম পথই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। এতে বছরের পর বছর ঝুঁকি ও দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। বারবার দাবি ও আবেদন জানিয়েও এখনো মেলেনি স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যায়। সামান্য অসতর্কতায় নিচে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য এ সাঁকো পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাঁকো থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে প্রায় প্রতিনিয়ত।
গ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিয়ে। মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের এই সাঁকো পার হতে হয়। বর্ষায় সাঁকো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এতে তাদের উপস্থিতি ও পড়াশোনা দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।
মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঢাকা পোস্ট কে জানান, বর্ষাকালে সাঁকোটি ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও বাড়বে।
মধুপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা সুবায়েল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বর্ষায় সাঁকো দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর।
আরেক বাসিন্দা এরশাদ মিয়া বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, গ্রামের নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদেরও এই সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। বৃষ্টি হলে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আমরা দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবি জানাই।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবাইদা বলে, বৃষ্টি হলে সাঁকো পিচ্ছিল থাকে। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। পড়ে যাওয়ার ভয় হয়। রাস্তা হলে আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা সড়ক নির্মাণের আশ্বাস শুনে আসছেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে আছে।
গ্রামবাসীর দাবি, অস্থায়ীভাবে সাঁকো সংস্কার নয়, তাদের প্রয়োজন একটি স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা। ৫ দশকের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে দ্রুত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, সড়কটি নির্মাণে তার উদ্যোগ রয়েছে। তবে মাটির বরাদ্দ না পাওয়ায় বারবার চেষ্টা করেও কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সড়ক না থাকায় পেরুয়া মধুপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখলে দ্রুত সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
তামিম রায়হান/এমএমবি
