বিজ্ঞাপন

সিলেটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচিতে সাংবাদিক হেনস্তা

সিলেটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচিতে সাংবাদিক হেনস্তা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেটের স্থানীয়রা সাংবাদিকরা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেটে এসে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন হুমায়ুন কবির। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর মাজার জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল তার।

মুসল্লিদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটাতে সাংবাদিকেরা মাজারের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তবে প্রতিমন্ত্রী বের হওয়ার সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভিড় ও ধাক্কাধাক্কিতে কাজের পরিবেশ নষ্ট হয় বলে জানান তারা। পরে সাংবাদিকেরা মাজারের বাইরে এলে ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও’ স্লোগান দিয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী তাদের দিকে এগিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যামেরায় তাদের দেখানোর জন্য সাংবাদিকদের নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব নেতাকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং তাদের ওপর চড়াও হন।

সংবাদ সংগ্রহের সময় হেনস্তার ঘটনায় নাজেহাল হন সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার অপু বণিক, যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার নাবিল হোসেন, চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার এম এ কাইয়ুম, ডিবিসি নিউজের তাওহিদুর রহমান শাহ, কালের কণ্ঠের বিভাগীয় মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ কবির আহমদ, একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন তারেক আহমদ, ডিবিসির ক্যামেরাপার্সন সাকিব আহমদ এবং এটিএন নিউজের রিপোর্টার কামরুল ইসলাম মাহি।

সাংবাদিকরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বাধ্য হন তারা। এ সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকরা।

পরে সাংবাদিকরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের অনুষ্ঠানসহ বিএনপির সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কী কারণে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাসুদ আহমদ রনি/এসএইচএ