বিজ্ঞাপন

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ মাদক কারবারির বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ মাদক কারবারির বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

খুলনা মহানগরীর বি কে মেইন রোড ও মৌলভীপাড়া এলাকায় নৈশকালীন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা দুই মাদক কারবারির বাড়ি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ মাদক কারবারি পরাগের স্ত্রী, মেয়ে, ছোটভাই সৌরাগ ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের স্পটে বিভিন্ন বয়সের মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। মাদকের টাকা সরবরাহ করতে গিয়ে এলাকায় বেড়ে যায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে বি কে মেইন রোডস্থ বড় মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘মা টেলিকম’-এর মালিক মিলন মন্ডল এবং পার্শ্ববর্তী ‘আলতাফ স্টোর’-এর মালিক মো. আলতাফ হোসেনের দোকানে চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা রাতের আঁধারে দোকান দুটি থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। চোরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আরাফত ও পূর্ব বানিয়াখামার মসজিদে মাইকিং করে জড়ো হয়ে মাদক কারবারি পরাগের বাড়িতে হামলা চালায় স্থানীয় জনতা।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বি কে মেইন রোডস্থ ইসমাইল মঞ্জিলের বাসিন্দা মৃত ইসমাইলের ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি পরাগ নিজ বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আসর ও বেচাকেনা চালিয়ে আসছিলেন। পরাগের কাছ থেকে মাদক কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা উচ্ছৃঙ্খল যুবক ও মাদকসেবীরা ওই এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

দোকান চুরির ঘটনায় চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার দুপুরে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ পরাগের ‘ইসমাইল মঞ্জিল’ ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে খুলনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা চারজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা মৌলভীপাড়া সুলতান আহমেদ রোডস্থ সাহেব আলী মোড়ের অপর চিহ্নিত মাদক কারবারি জ্যোতির বাড়িতে চড়াও হয় এবং তার বসতঘরের থাই গ্লাস ভাঙচুর করে।  

খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরবর্তীতে পরাগের স্ত্রী, কন্যা, ছোট ভাই ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সদর থানার যেসব এলাকায় মাদক বিকিকিনি হচ্ছে, ওইসব এলাকায় কঠোর অভিযান চলবে। সদর থানা এলাকা মাদক মুক্ত করা হবে। 

মোহাম্মদ মিলন/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন