বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতিমন্ত্রী

জন্মাষ্টমী জাতীয় সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

জন্মাষ্টমী জাতীয় সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, ন্যায় ও মানবকল্যাণের চিরন্তন শিক্ষা বহন করে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মাগুরার সাতদোহায় শ্রী শ্রী ন্যাংটা বাবার আশ্রমে মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা নিয়ে তিনি জন্মাষ্টমীর এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উদযাপিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাগুরায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশাল অনুষ্ঠান জাতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রকাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় উৎসবগুলো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও জোরদার করে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী গোষ্ঠী বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অপশক্তিই যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক, আমরা সবাই বাংলাদেশি।

তিনি বলেন, দেশের কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সভাপতি কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদ ও পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।

এ সময় বিভিন্ন সেবাশ্রমের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, কৃষ্ণভক্তসহ বিভিন্ন ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাগুরার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো ভক্ত অংশ নেন। তারা শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায় ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তাছিন জামান/এমএন