বিজ্ঞাপন

উত্তরবঙ্গের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র পাবনায়, মোবারকপুরে কূপ খনন

উত্তরবঙ্গের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র পাবনায়, মোবারকপুরে কূপ খনন

পাবনার সাঁথিয়ার পাগলা ও সুজানগরের মোবারকপুরে গ্যাসের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে নতুন করে আশার আলো দেখছে জ্বালানি খাত। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অনুসন্ধানে সাফল্য এলে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে প্রায় ২০ বছর গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামের কূপটি পরিত্যক্ত না করে দ্বিতীয় কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লেরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। এরই অংশ হিসেবে সুজানগরের মোবারকপুরে শুরু হয়েছে কূপ খননের কাজ।

এর আগে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে গ্যাস কূপ খননের কাজ শেষ হওয়ার পর পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে মোবারকপুরে দ্বিতীয় কূপ খননের উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

২০১৭ সালের দিকে কূপ এলাকা থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী বিভিন্ন মালামাল হস্তান্তর করা হলেও ওই এলাকার জমির লিজ এবং খননস্থলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখনও বাপেক্সের অধীনে রয়েছে।

এদিকে, গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ে বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলায় ৬ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরতায় কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বারবার পরিচালিত ভূকম্পন জরিপের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে মোবারকপুরে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সফল হলে এটি উত্তরবঙ্গের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে।

বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ৬ একর জমিতে প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। তবে মূল খননকাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি। ২০১৪ সালে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছিল বাপেক্স। তবে ভূগর্ভে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই স্থগিত করতে হয়।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, ২০১৪ সালে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় খননের লক্ষ্যে কাজ শুরু হলেও নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর তীব্র গ্যাসের চাপের কারণে তা বন্ধ রাখতে হয়। ওই চাপ মোকাবিলা করে আরও গভীরে যাওয়ার প্রযুক্তি তখন আমাদের কাছে না থাকায় প্রকল্পটি সফল হয়নি। ‘সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় খননকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’, বলেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খননের মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার ৯০৯ কোটি টাকা ঋণ দেবে এবং বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়ন করবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম বলেন, ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের জন্য উন্নত কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন। এ জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কূপ খনন ও রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ করবে।

তিনি বলেন, সিসিডিসি বর্তমানে কুমিল্লায় খননকাজ চালাচ্ছে। সেখান থেকে রিগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোবারকপুরে স্থানান্তর করা হবে। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের শেষ দিকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই ক্ষেত্র থেকে ২০ বছর ধরে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

প্রকল্প পরিচালক মেরাজুল আলম বলেন, জমি উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি ড্রিলিং শুরু হবে।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, মার্চে আহমেদপুর মৌজার ৬ একর জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

বাপেক্সের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল নির্মাণের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার মানুষের স্বপ্ন স্থানীয় একটি গ্যাসক্ষেত্রের।

এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন