বিজ্ঞাপন

জিপ লাইন-জায়েন্ট সুইংয়ে নতুন আকর্ষণ, খাগড়াছড়িতে বাড়ছে পর্যটক

জিপ লাইন-জায়েন্ট সুইংয়ে নতুন আকর্ষণ, খাগড়াছড়িতে বাড়ছে পর্যটক

পাহাড়, ঝরনা, সবুজ বন আর মেঘের অপূর্ব মেলবন্ধনে খাগড়াছড়ি এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে নতুন করে জিপ লাইন ও জায়েন্ট সুইং যুক্ত হওয়ায় পর্যটনে এসেছে নতুন মাত্রা। এসব রাইড উপভোগ করতে প্রতিদিনই পার্কে ভিড় করছেন স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।

খাগড়াছড়িতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশ জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝরনা, মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়ান।

বিশেষ করে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে জিপ লাইন ও জায়েন্ট সুইং চালু হওয়ার পর তরুণ-তরুণী, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনেকে শুধু নতুন এই রাইড উপভোগ করতেই জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে আসছেন।

ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা জুয়েল চৌধুরী বলেন, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে জিপ লাইন ও জায়েন্ট সুইং চালু হওয়াটা খুব ভালো উদ্যোগ। নতুন রাইড থাকায় পার্কে এসে আনন্দ করার সুযোগ বেড়েছে। জিপ লাইনে চড়ার অভিজ্ঞতা আমাদের খুব ভালো লেগেছে। বিদেশে এ ধরনের রাইড দেখেছি, এখন দেশের মাটিতে খাগড়াছড়িতে এমন রাইড উপভোগ করতে পারছি এটা সত্যিই আনন্দের।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের জিপ লাইনের সুপারভাইজার সাক্ষাৎওয়াত হোসেন জানান, জিপ লাইন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু থাকে। চালুর পর থেকেই পর্যটকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ রাইডটি উপভোগ করতে আসছেন।

পরিবার নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা জাকির হোসেন বলেন, ঝুলন্ত ব্রিজ, লেকে প্যাডেল বোটসহ পার্কটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন আমাদের খুব ভালো লেগেছে। চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশও মন ভালো করার মতো। তবে পর্যটকদের জন্য পার্কের ভেতর আরও ভালো বসার জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া অন্যান্য পার্কগুলোতেও কিছু রাইড স্থাপন করা প্রয়োজন। 

শুধু জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও আলুটিলা নয়, জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটেও বাড়ছে পর্যটকের উপস্থিতি। ভাই-বোনছড়ার মায়াবিনী লেকেও সম্প্রতি পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ পানির লেক ও পাহাড়ি পরিবেশ পর্যটকদের টানছে সেখানে। 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এমএন আবছার বলেন, খাগড়াছড়ির পর্যটনকে আরও এগিয়ে নিতে হলে আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগও বাড়াতে হবে। জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে জিপ লাইন ও জায়েন্ট সুইং যুক্ত হওয়ায় নতুন আকর্ষণ তৈরি হয়েছে এবং পর্যটকদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে

তিনি আরও বলেন, পার্কে শিশুদের জন্য আরও আধুনিক ও নিরাপদ রাইড তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করব। পাশাপাশি পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য ছোট ছোট কটেজ, বসার স্থান ও বিনোদনের আলাদা স্পট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে পর্যটকরা আরও বেশি সময় এখানে কাটাতে পারেন।

সম্প্রতি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা নবগঠিত জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পার্কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পর্যটকদের সুবিধা, বিনোদনের সুযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে খোঁজ নেন।

চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা বলেন, খাগড়াছড়ির পর্যটন সম্ভাবনা অনেক বড়। পাহাড়, ঝরনা, লেক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারেন এবং এখানে এসে ভালো সময় কাটাতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন নতুন রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণ যাতে পর্যটন থেকে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলে খাগড়াছড়িকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাগড়াছড়িতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও তাদের দীর্ঘসময় ধরে রাখার জন্য আরও বিনোদনমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে শিশুদের জন্য আধুনিক রাইড, পরিবার নিয়ে বসার স্থান, কটেজ, খাবারের ব্যবস্থা ও অন্যান্য বিনোদন সুবিধা বাড়ানো গেলে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়বে।

পর্যটকদের প্রত্যাশা, খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন স্পটগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নতুন নতুন রাইড যুক্ত করা হবে। এতে একদিকে যেমন পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

জিপ লাইন ও জায়েন্ট সুইংয়ের মতো নতুন আকর্ষণ যোগ হওয়া এবং মায়াবিনী লেকের মতো স্পটগুলোতে পর্যটকের আনাগোনা বাড়ায় খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন, নতুন রাইড সংযোজন এবং পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করা।

মোহাম্মদ শাহজাহান/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন