বিজ্ঞাপন

ডেপুটেশন বাতিল না করেই বদলি, ৮১ শিক্ষার্থীর স্কুলে শিক্ষক সংকট

ডেপুটেশন বাতিল না করেই বদলি, ৮১ শিক্ষার্থীর স্কুলে শিক্ষক সংকট

নীলফামারী সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সম্প্রতি জারিকৃত একটি বদলি আদেশ ও ডেপুটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ২০ আগস্ট (স্মারক নং-উপপ্রাশিপ/সদর/নীল/৮২৪) জারিকৃত এক অফিস আদেশে সহকারী শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।

আদেশে দেখা যায়, উক্ত বদলি আদেশের ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা সহকারী শিক্ষক জুঁই রানীকে তার মূল কর্মস্থল দাঁড়িহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তরণীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। অথচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে (ডেপুটেশন) সংযুক্তিতে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী সংযুক্তি বাতিল করে বদলির আবেদন করতে হয়। তবে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার সংযুক্তি আদেশ বাতিল না করেই তার বদলি আবেদন গ্রহণ করে বদলি আদেশ প্রদান করেন।

সহকারী শিক্ষক জুঁই রানীর সংযুক্তি বাতিল না করে কীভাবে এই বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে তার কোন সদুত্তর মেলেনি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বদলি কমিটির সদস্য সচিব জছিজুল আলম মণ্ডলের কাছে। বদলির এরকম অনিয়ম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষক মহলে।

এরআগে গত ১৭ আগস্ট ঢাকা পোস্টে নীলফামারিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডেপুটেশনে ৩০ শিক্ষক, পাঠদান ব্যাহত শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর ১৭ আগস্ট বিকেলে ও ১৮ আগস্ট দুটি পৃথক আদেশে ৮ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন বাতিল হলেও জুঁই রানীর ডেপুটেশন বাতিলের কোন আদেশ পাওয়া যায়নি।

কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা এবং ৩০ আগস্টের বিদ্যালয়ে দৈনিক উপস্থিতি তথ্য বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায় ২০ আগস্টে বদলি আদেশ হলেও জুঁই রানী গত ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সংযুক্তিকৃত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে শিক্ষক প্রতিস্থাপন না করে জুঁই রানীকে সরিয়ে নেওয়ায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ জন শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে জুঁই রানীসহ ৩ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। ৮১ জন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের থেকে জুঁই রানীর বদলির পর বর্তমানে মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

(ডেপুটেশন) সংযুক্তি বাতিলের আগেই বদলি আদেশ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক প্রতিস্থাপন না করে মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালানোর এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

তরনীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বলেন, বদলিকৃত শিক্ষক জুঁই রানী গত ২৪ তারিখে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। বর্তমানে তিনি এই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।

এবিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে। 

এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, যদি এরকম বদলি আদেশ হয়ে থাকে তাহলে এই পদ্ধতি সঠিক নয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন