নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে লিটন (৩৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে সুমন নামে এক স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে। পিটুনির শিকার যুবকের একটি হাত ও দুই পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার জালাকান্দি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। শনিবার রাতে নির্যাতনের একটি ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী লিটন এলাকাতেই অবস্থান করেন এবং চেয়ে-চিন্তে জীবনযাপন করেন। তাকে স্থানীয় সবাই ‘লিটন পাগলা’ নামে চেনেন। শুক্রবার দিনে কোনো একসময় লিটন অভিযুক্ত সুমনের মায়ের কাছে খাবার চান। সুমন দাবি করেন, খাবার চাওয়ার সময় লিটন তার মায়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন।
এই ঘটনার জেরে শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জালাকান্দি এলাকার একটি দোকানের সামনে লিটনকে পেয়েই চড়াও হন সুমন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, সুমন একটি মোটা লাঠি দিয়ে লিটনকে মাটিতে ফেলে একের পর এক আঘাত করছেন। ভুক্তভোগী বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তনাদ করলেও অভিযুক্ত থামেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুমনের ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত কেউই তাকে থামাতে এগোতে পারেননি।
আহত লিটনের স্বজনরা জানান, চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে হামলায় তার একটি হাত ও দুটি পা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, ভিডিওচিত্রটি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মেহেদী হাসান সৈকত/এসএইচএ
