বিজ্ঞাপন

ইয়াবার বিনিময়ে ডেকে নিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ইয়াবার বিনিময়ে ডেকে নিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় শুভ চন্দ্র দাস (৩০) নামে এক যুবককে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

এর আগে গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়ক থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুভ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গলাচিপা এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অনিক ও সুমন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করা হয়। তাকে ১০টি ইয়াবা বিনিময়ে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। এরপর অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সেখানে জড়ো হয়।

ডিবির দাবি, ঘটনাস্থলে আসার পর শুভকে গুলি করেন অনিক ও অহিদ। পরে দলের অন্য সদস্যরা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শুভর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুভর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর দায়ের করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আমলাপাড়া মাদরাসাপাড়া এলাকার সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), একই এলাকার কেবি সাহা বাইলেনের সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) এবং মো. সোহান (২৪)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান চলছে।

মেহেদী হাসান সৈকত/আরএআর