সাভারের আমিনবাজারে অটোগ্যারেজের সামনে তর্কাতর্কির প্রতিবাদ করায় আলতাব হোসেন (৫৮) নামে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাবার প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছোট ছেলেও। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বরদেশী পশ্চিমপাড়া এলাকার ‘এড্রইট ফ্যাশন’ নামক পোশাক কারখানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আলতাব হোসেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বরদেশি এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন - জহিরুল (৩২), মজিবর (৩৫), কাশেম (৩৩), আলমগীর (৪০), আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), মারুন (২০), জিৎ (২২), লালন (২২), ইমরান (২৬), মাসুদ (২৫), জিল্লু (২৩), রুদ্র (২৬) ও রাকিব (২৫)। এছাড়াও অজ্ঞাননামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বরদেশী এলাকায় একটি অটোগ্যারেজের সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি জহিরুলের সঙ্গে এক রিকশাচালকের তর্ক হয়। এ সময় রিকশার গ্যারেজ মালিক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আসলে তার সঙ্গেও একপর্যায়ে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে জহিরুল প্রাইভেটকার থেকে নেমে উত্তেজিত হয়ে গ্যারেজ মালিককে থাপ্পড় মারেন। তখন পথচারী হিসেবে তা দেখে প্রতিবাদ জানান পুলিশ কর্মকর্তা আলতাব হোসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জহিরুল ও তার সঙ্গীরা আলতাবের ওপর চড়াও হয়। আত্মরক্ষার্থে আলতাব দৌড়ে পাশে তার বড় ছেলের মালিকানাধীন পোশাক কারখানা ‘এড্রইট ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে আসামিরা সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানায় অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আলতাব হোসেনকে ঘিরে ধরে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখে। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। আসামিরা কারখানায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়রা বাবা- ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরিফুল ইসলাম বর্তমানে সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঢাকা পোস্টকে জানান, পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। হামলার মূল হোতা জহিরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লোটন আচার্য্য/আরএআর
