রংপুরের পীরগাছায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানি, দুর্ব্যবহার, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ কমিটি গঠন করা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এজিএম কামাল পাশাকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন-পিও আতিকুল ইসলাম।
এর আগে পীরগাছা সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, দুর্ব্যবহার, অনিয়ম ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ তুলে ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি সোনালী ব্যাংকের এজিএম ম্যানেজার, আমি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। এই উপজেলার ইউএনও আমার দুই গ্রেড নিচে ষষ্ঠ গ্রেডে চাকরি করেন। আমি এই উপজেলার বড় কর্মকর্তা। আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে।’ এ বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভিযোগগুলো তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।
রোববার তদন্ত কমিটির সদস্যরা দিনব্যাপী সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তারা সেবা নিতে আসা অসংখ্য গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কেও গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।
তদন্তের সময় গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবার মান, শাখা ব্যবস্থাপকের আচরণ, হয়রানি, চেকবই প্রদান, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ঋণ-সংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় একাধিক গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের দুর্ব্যবহার, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় ব্যবস্থাপকের কক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার নিয়েও অভিযোগ ওঠে। একাধিক গ্রাহক তদন্ত কমিটিকে জানান, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা বা সমস্যা নিয়ে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও সাধারণ গ্রাহকদের সহজে তার কক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না। তবে ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়মিত ওই কক্ষে যাতায়াত ও অবস্থানের অভিযোগও করেন তারা।
তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ মহল তৈরি, তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা এবং সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন।
ঋণ বিতরণ ও চেকবই প্রদানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা তদন্ত কমিটির কাছে জানান কয়েকজন গ্রাহক। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান এজিএম কামাল পাশা বলেন, জিএম স্যারের নির্দেশে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দাখিল করব।
দিনব্যাপী তদন্ত শেষে কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও অভিযোগ সংগ্রহ করেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে
