বিজ্ঞাপন

গুদামের শাটার ভেঙে ১৫০ বস্তা সার লুটের অভিযোগ

গুদামের শাটার ভেঙে ১৫০ বস্তা সার লুটের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি ডিলার পয়েন্টে হট্টগোল করে ১৫০ বস্তা সার লুট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সার লুটের ঘটনা অস্বীকার করছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ঘটনাস্থলে টহল দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড়স্থ মিতা হাসান ট্রেডার্স গুদাম ঘরের সামনে সোমবার মধ্যরাত থেকে কৃষকরা সারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন। সকাল ৯টার দিকে ডিলার মতিউর রহমান কৃষকদের জানান, পুলিশ এনে সার বিতরণ করা হবে। এরপর প্রায় ২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কেউ না আসায় সকাল ১১টার দিকে উত্তেজিত কৃষকরা গুদাম ঘরের শাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৫০টি সারের বস্তা নিয়ে যায়। এ ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের সার ডিলার মো. মতিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনও’র কাছে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা সকাল ১১টার দিকে গোডাউন থেকে আনুমানিক দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিন শেষে হিসাব করে বলা যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। ফেসবুকে সার লুটের যেসব নিউজ ঘুরছে তা সঠিক নয়। কৃষকরা ধৈর্য্য ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সার নিলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তিনি আরও বলেম, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রৌমারী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবির জানান, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনেক ভ্যান, রিকশাচালক ও কৃষক নয়, এমন লোকজন সার নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন বলেও তিনি জানান।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন