পটুয়াখালীতে আর্থিক প্রতারণার মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম মিলে যাওয়ায় ভুলবশত গ্রেপ্তার হয়ে ২০ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মো. জলিল হাওলাদার (৫৭) নামের এক ব্যক্তি। তবে পরে যাচাই করে জানা যায়, ওই মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জানা যায়, এর আগে গত ১৯ আগস্ট দুপুরে একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মো. জলিল হাওলাদারকে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন মহিপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী মো. জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে।
গ্রেপ্তার হওয়া সেই মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালে আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর থানার শিববাড়িয়া এলাকার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য জলিলের দেওয়া একটি চেক ২৭ মার্চ ২০২৩ তারিখে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রত্যাখ্যাত হয়।
এ মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নাম, বাবার নাম ও একই গ্রামের হওয়ায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের মায়ের নাম হালিমা খাতুন। অন্যদিকে মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের মায়ের নাম মাজেদা। অর্থাৎ দুজনের মায়ের নাম ভিন্ন।
কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার শ্বশুরের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টই নাই। তারপরও তাকে ২০ দিন জেল খাটতে হয়েছে। পুলিশ কেন এ ধরনের ভুল করল। আমরা এর ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।
জলিল হাওলাদারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আজ আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। আর মহিপুর থানার ওসিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মো. শামীম হাওলাদার বলেন, প্রকৃত আসামির নাম, বাবার নাম এবং ঠিকানায় মিল থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মূলত আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নাম কিংবা ফোন নম্বর থাকে না। এ কারণে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারের সময় আসামিও বলেনি সে এই মামলার আসামি না। তবে ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আমি অফিসারদের আরও সতর্ক হতে বলব।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ওয়ারেন্টে মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এ ভুল হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এসএইচএ
