বিজ্ঞাপন

ইউজিসি চেয়ারম্যান

ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার হাব হতে পারে ইকো ইউনিভার্সিটি

ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার হাব হতে পারে ইকো ইউনিভার্সিটি

উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের সদ্য অনুমোদন পাওয়া ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামো ও একাডেমিক প্রস্তুতি দেখে এটি ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ছোট খচাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন শেষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ, শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনা সভায় ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো: আমির হোসেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ইসরাফিল শাহীন এবং ইকো পাঠশালা অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. সেলিমা আখতার।

আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সম্প্রতি সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন পদ্ধতি, গ্র্যাজুয়েটদের মান নিশ্চিত করা এবং তাদের চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি আমার কাছে কিছুটা ভিন্নধর্মী মনে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্কিল ডেভেলপমেন্টে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও মানসম্মত শিক্ষা যেমন জরুরি, একই সঙ্গে তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাতে তারা দেশে ও দেশের বাইরে সরাসরি চাকরির বাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, সেই লক্ষ্য মাথায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করে আমার কাছে মনে হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগোচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করছি, ইকো ইউনিভার্সিটি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা আগ্রহী।

এর আগে ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ইউজিসি চেয়ারম্যান ও কমিশনের সদস্যরা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন।

বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি, নদী, জীববৈচিত্র্য, লোকশিল্প, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দুর্লভ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্পর্কে তারা অবহিত হন। তারা জাদুঘরের কৃষি গ্যালারি, লোকজ খেলনা ও পুতুল গ্যালারি, নদী গ্যালারি, নৃ-তাত্ত্বিক গ্যালারি, লোকজ ঐতিহ্য গ্যালারি, বিজ্ঞান গ্যালারি, মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি ও বৃক্ষ গ্যালারি ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ উপকরণ, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা এবং দেশের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে লোকায়ন জাদুঘরের ভূমিকা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

রেদওয়ান মিলন/আরএআর

বিজ্ঞাপন