ফরিদপুরে অটোভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য চালককে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে শিশু আদালতে দুইজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ মামলার আলামত নষ্ট করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ওই দুই ব্যক্তিকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে জেলা শিশু আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।
রায় প্রদানের সময় দুই আসামি আদালতে হাজির ছিল। রায় প্রদানের পর তাদের পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে আসামিদের একটি দণ্ড ভোগ করার পর অপর দণ্ডটি ভোগ করতে হবে। রায় প্রদানের সময় এই দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিরা অপরাধ সংঘটনের সময় শিশু থাকায় তাদের বিচার শিশু আদালতে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় জেলা কারাগারে অন্য সাধারণ কয়েদির মতোই তাদের দণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ (৪৪) অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে বের হয়ে সারারাত বাড়ি ফিরে যাননি। পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর সদরের আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাইনবোর্ড এলাকায় খালেক দেওয়ানের মেহগনি বাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রহিমুন বেগম (৪২) বাদী হয়ে ওই বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক ফাহিম ফয়সাল তরফদার এই দুই কিশোরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ মামলার পিপি গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া বলেন, এটি একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। দুই কিশোর একটি অটোভ্যান ছিনতাই করার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে একটি ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ রায় এ জাতীয় অপরাধ দমনে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জহির হোসেন/এসএইচএ
