বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর চরখিদিরপুরে ১৫০ পরিবার পানিবন্দি, বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট

রাজশাহীর চরখিদিরপুরে ১৫০ পরিবার পানিবন্দি, বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরখিদিরপুরে ১৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পুরো চরের চারাপাশে পানি উঠে গেছে। অনেক বাড়িতে ঢুকে গেছে পানি। চরের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বন্ধ হয়ে গেছে। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার চরখিদিরপুর ছেড়েছেন; যারা ছাড়েননি তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, রাজশাহী সীমান্তে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে। গেল তিনদিন থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার। যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বলছেন এই গেজ রিডার। এই পয়েন্টে পদ্মার বিপৎসীমা হলো ১৮ দশমিক ৫ মিটার।

এদিকে, চরের চারণভূমি পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে মারাত্মক গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। একইভাবে গবাদিপশুর আশ্রয়স্থলেও অভাব দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ চর থেকে গবাদিপশু লোকালয়ে নিয়ে এসেছেন। যেগুলো রয়েছে- সেগুলোর মধ্যে আবার রোগবালাই দেখা দিয়েছে। গেল দুই সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে ১৮ থেকে ২০টি গরু মারা গেছে। যার মধ্যে বড় অংশ অল্প বয়সী।

চরের বাসিন্দা মনসুর আলী বলেন, নদীর পানি এলাকায় ঢুকে গেছে। এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে গেছে। রান্না করে খাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। এখানে খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চরখিদিরপুরে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০০ পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এখানে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুগুলোর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু গরু-মহিষ মিলে সাড়ে ৪ হাজার। গেল দুই সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে ১৮ থেকে ২০টি গরু মারা গেছে। মানুষ চর ছাড়ছে। অনেকেই রয়েছে। এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, পানির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়াও বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এলাকার গিয়াস উদ্দিনের গরু মারা গেছে। এছাড়া তার আরও তিনটি গরু অসুস্থ হয়ে আছে। এলাকার দাউদ আলীর দুইটি গরু মারা গেছে। শুধু তাই নয়, মেম্বারের নিজেরও একটি গরু মারা গেছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে পানিবন্দির বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।  

এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, চরে পানি উঠে যাওয়ার বিষয়টি আজকে শুনেছি। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখানের প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য। এছাড়া ওই চরে দ্রুত শুকনো খাবার দেওয়া হবে।

শাহিনুল আশিক/এসএইচএ