বিজ্ঞাপন

অবৈধভাবে ৩২৮ বস্তা সার মজুত, গ্রেপ্তার ২

অবৈধভাবে ৩২৮ বস্তা সার মজুত, গ্রেপ্তার ২

মাগুরার শ্রীপুরে অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে অভিযুক্ত মামলার দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার কোদলা ও লাঙ্গলবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

এর আগে তাদের গুদাম ও বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩২৮ বস্তা সার উদ্ধার করেছিল উপজেলা প্রশাসন। উদ্ধার হওয়া সারের মধ্যে ২৬৭ বস্তা ডিএপি ও ৬১ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যবসায়ী হলেন উপজেলার আমলসার গ্রামের শহিদ জোয়ার্দ্দার ও নবাব জোয়ার্দ্দার। 

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে আমলসার গ্রামের ওই দুই ব্যবসায়ীর গুদাম ও বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে উদ্ধার করা সার শ্রীপুর থানার হেফাজতে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে শহিদ জোয়ার্দ্দার ও নবাব জোয়ার্দ্দারের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সার অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। উদ্ধার করা সার কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম) বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীপুরে ৩২৮ বস্তা সার উদ্ধারের ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, কোথায় সরবরাহ করার কথা ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থে সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বা কালোবাজারি বরদাশত করা হবে না। অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট কিংবা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে শ্রীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সার কীভাবে দুই ব্যবসায়ীর গুদাম ও বাড়িতে গেল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার আদালতে তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

তাছিন জামান/এমএমবি

বিজ্ঞাপন