বিজ্ঞাপন

সাইকেলে ৮ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হজে যাচ্ছেন নরসিংদীর সজিব

সাইকেলে ৮ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হজে যাচ্ছেন নরসিংদীর সজিব

ছোটবেলা থেকেই সাইকেলে চড়ে পবিত্র মক্কায় হজ পালন করার স্বপ্ন লালন করছিলেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার তরুণ সজিব তালুকদার। সেই লক্ষ্য পূরণে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন। এবার  সাইকেলে করে ছয়টি দেশের প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন সজিব। সাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে পৌঁছে হজ পালন করাই তার মূল লক্ষ্য। তার এই ব্যতিক্রমী ও সাহসিক উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

সজিব বেলাব উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের তালুকদার বাড়ির সালাউদ্দিন তালুকদারের ছেলে।

জানা যায়, ছোটবেলা থেকে সজিবের ভ্রমণের প্রতি নেশা ছিল। সময় পেলেই তিনি ঘুরতে বের হতেন। এইচএসসি পাশের পর এই ভ্রমণের নেশা বেড়ে যায়। তিনি ইতোমধ্যে সতেরটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ঘুরেছেন দেশের ৬৪টি জেলা। ভ্রমণের ভিডিও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউভ চ্যানেলে নিয়মিত আপলোড করে থাকেন তিনি। সবার কাছে তিনি ট্যাভেল ব্লগার হিসেবে জনপ্রিয়। এইবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে রোববার সকালে বেলাব উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে সজিব মক্কার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে তাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাগত জানান। রাতে তিনি নরসিংদী জেলা শহরে রাত্রিযাপন করেন। পরে রোববার তিনি নরসিংদী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সজিব ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, ইরান ও কুয়েত হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করবেন।

নিজের এই স্বপ্ন পূরণের যাত্রা সম্পর্কে সজিব তালুকদার বলেন, ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণেই সাইকেলে করে পরিবারের সহযোগিতায় পবিত্র মক্কা নগরীতে হজ করার জন্য রওনা দিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনটি দেশের ভিসা পেয়েছি, বাকিগুলোও অ্যাম্বাসিতে মেইল করা আছে, যাত্রাপথে পেয়ে যাবো। এই যাত্রায় নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সাইকেল চড়ে ভ্রমন করেছি। সাইকেলটি প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ করে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। দীর্ঘ পথে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় সঙ্গে রাখা হয়েছে তাবু, খাদ্য ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সজিব বলেন, এলাকাবাসী, বন্ধু ও প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। এই যাত্রার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে দেশের পতাকা ও সুনাম ছড়িয়ে দিতে চাই। পাশাপাশি প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং জ্বালানিমুক্ত, পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে সাইকেলের গুরুত্ব তুলে ধরবো। এই যাত্রা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে বিশ্ব ভ্রমণেও বের হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

সজিবের বন্ধু রাজন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা তার ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ দেখেছি। সেই আগ্রহ থেকেই সে সাইকেল দিয়ে ভ্রমণ করতো। ইতোমধ্যে সে বিভিন্ন জেলা সাইকেল দিয়ে ঘুরেছে। এবার সে যে পবিত্র উদ্দেশে বের হয়েছে তা যেন সফল হয়, দোয়া করি।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম নামে একজন বলেন, সজিব মনের আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য নিয়ত করেছে। আগে মানুষ পায়ে হেটেঁ ও জাহাজে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হজে যেতেন। আর সজিব সাইকেলে পবিত্র হজ করার উদ্দেশে বের হয়েছে। তার ইচ্ছা পূরণে আমরা দোয়া করি।

সজিব তালুকদারের বাবা সালাউদ্দিন তালুকদার বলেন, আমার ছেলের ভ্রমণের আগ্রহ দেখে তাকে না করিনি। সে দেশের জেলাগুলো সাইকেলে ঘুরেছে। বাবা হিসেবে তার এই সিদ্ধান্ত ও মহৎ ইচ্ছাকে আমি স্বাগত জানিয়েছি। সে যেন সহিহ-সালামাতে পথ পাড়ি দিয়ে হজ শেষ করে আবার আমাদের বুকে ফিরে আসতে পারে, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

বেলাব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজ সারতাজ জায়েদ বলেন, সজিবের এই ব্যতিক্রমী ও সাহসিক সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসনীয়। তরুণ প্রজন্মের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দূরদর্শিতার এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার এই দীর্ঘ সফর সফল ও সুগম হোক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার নিরাপদ যাত্রার জন্য আন্তরিক শুভকামনা ও দোয়া রইল।

আমিনুর রহমান সাদী/এএমকে