বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ দেওয়ায় ইউপি সচিব বরখাস্ত

রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ দেওয়ায় ইউপি সচিব বরখাস্ত

কুমিল্লার মুরাদনগরে রোহিঙ্গা নাগরিকে জন্মসনদ প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী (ইউপি সচিব) মো. ইসমাইল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতার ঢাকা পোস্টকে বরখাস্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ প্রদানের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে মো. ইসমাইল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তার এ কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধিমোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং এই বরখাস্তের আদেশ তার চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করা হবে।

এর আগে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ প্রদানের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়ে ৭ মাস কারাগারে ছিলেন ইসমাইল হোসেন। পরে তার বিষয়ে তদন্ত করার জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সুলতানা রাজিয়াকে দায়িত্ব দেওয়ায় হয়। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন জেলা প্রশাসকের কাছে। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসমাইল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুলতানা রাজিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, মুরাদনগরের পাহাড়পুর ইউনিয়নের সচিবসহ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ইসমাইল হোসেন মিলে একজন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ দিয়েছিলেন। বিভাগীয় মামলার অংশ হিসেবে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমি তদন্ত করে ডিসি স্যারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

জেলা প্রশাসক রোজী আকতার বলেন, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরিফ আজগর/এসএইচএ