উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজবাড়ীর পদ্মা, গড়াই ও হড়াইসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধিতে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এখনো জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি এবং কোথাও পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
রাজবাড়ী পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৭ দশমিক ৫৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ২০ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি ৮ দশমিক ৪৪ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৫০ মিটার। পানি বিপৎসীমার ২ দশমিক ০৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মার পানি ৯ দশমিক ৭৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। সেখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৫২ মিটার। পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া কামারখালী ব্রিজ পয়েন্টে গড়াই নদীর পানি ৭ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৭৫ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ১১ সেন্টিমিটার, মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার, সেনগ্রাম পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কামারখালী ব্রিজ পয়েন্টে গড়াই নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে উজানের ঢলে পদ্মা, গড়াই ও হড়াই নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে পানি আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে কোথাও ভাঙন দেখা দিলে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নদীপাড়ের মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদ-নদীর পানি পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এমএমবি
