বিজ্ঞাপন

আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হেনস্থার শিকার সাংবাদিক

আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হেনস্থার শিকার সাংবাদিক

রংপুরে আইনজীবী সমিতিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে নবীন আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে স্থানীয় এক সাংবাদিককে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। হেনস্থার শিকার হওয়া সাংবাদিক আলমগীর হোসেন অপু সংবাদ সারাবেলার জেলা প্রতিনিধি ও দাবানল এর মহানগর সংবাদদাতা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এই হেনস্থার শিকার হন। এ ঘটনা জানাজানি হলে সাংবাদিকরা সেখানে ছুটে যান এবং আইনজীবী সমিতির সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন।

জানা গেছে, নবীন আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক আলমগীর হোসেন অপু হেনস্থার শিকার হন। আন্দোলনরত নবীন আইনজীবীদের একজন তার হাত থেকে ক্যামেরা এবং বুম (মাইক্রোফোন) কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন।

ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন জানান, নবীন আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় একজন আইনজীবী ধাক্কাধাক্কি করেন। ভিডিও করার সময় হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই তার হাত থেকে ক্যামেরা ও বুম কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। এ ঘটনায় আমি ভীষণ মর্মাহত হয়েছি।

এদিকে আন্দোলনরত নবীন আইনজীবীরা জানান, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৮ জনের মধ্যে ৪৫ জনকে সাধারণ এবং বাকি ৬৩ জনকে ভোটাধিকারহীন ‘সহযোগী সদস্য’ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সাথে সমিতিতে ভর্তির ফি পূর্বে ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বয়সভেদে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সী আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা কখনও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন। বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে মুচলেকা নেওয়ার প্রতিবাদে নবীন আইনজীবীরা আন্দোলন করছেন।

নবীন আইনজীবী আসমিন ফারহা আঁখি জানান, আগে ভর্তি ফি ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে বয়সভেদে তা ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সী আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কখনো ভোটাধিকার দাবি না করেন। এটা নবীন আইনজীবীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, এটা মানার মতো নয়। একারণে আমরা আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাব।

রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন জানান, নবীন আইনজীবীদের বিষয়গুলো নিয়ে সমিতিতে আলোচনা চলমান রয়েছে। সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনার বিষয়টি নিয়েও তাদের সাথে কথা বলা হবে। যদিও এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে এর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে সবার হয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি।

এ বিষয়ে সিটি প্রেসক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক বলেন, আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্বপালনের সময় সাংবাদিক আলমগীর হোসেনকে হেনস্থা করার ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এমন আচরণ কারো কাছ থেকে আশা করি না। এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকেও জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

দৈনিক দাবানল এর সম্পাদক খন্দকার মোস্তফা সরওয়ার অনু বলেন, সাংবাদিকের পেশাগত কাজে বাধা এবং ক্যামেরা-বুম কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আইনজীবীদের কাছ থেকে এমন আচরণ সত্যি কষ্টকর। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের পাশাপাশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ