বিজ্ঞাপন

রোয়াংছড়ি–কচ্ছপতলী সড়কে মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে পর্যটক-স্থানীয়রা

রোয়াংছড়ি–কচ্ছপতলী সড়কে মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে পর্যটক-স্থানীয়রা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিনই বান্দরবানের রোয়াংছড়ির দেবতাখুম ও শীলবান্ধা ঝর্ণায় ছুটে যান দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। কিন্তু এই আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কটিই এখন হয়ে উঠেছে দুর্ভোগ আর দুর্ঘটনার ঝুঁকির কারণ।

রোয়াংছড়ি–কচ্ছপতলী সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস, বড় বড় গর্ত ও ভাঙনে তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। বিশেষ করে খালসংলগ্ন প্রায় ৫০ মিটার সড়ক ভেঙে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগ, বাড়ছে ভোগান্তি এবং শঙ্কায় পড়েছে সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত।

রোয়াংছড়ির উপজেলা কচ্ছপতলী ৩ নম্বর আলেক্ষ্যং ইউনিয়নটি কেবল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, এটি বাংলাদেশের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ‘দেবতাখুম’-এ গমনের একমাত্র মূল প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন শত শত রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণপিপাসু পর্যটক এই পথ দিয়েই তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বেহাল দশায় পর্যটন শিল্পে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সড়কটির এহেন সংকটাপন্ন অবস্থার কারণে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ।

রোয়াংছড়ি ট্যুর গাইড সমিতির সভাপতি ও সংবাদ কর্মী চিংনুমং মার্মা বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা পুরো পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ​

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তংচংঙ্গা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও খাদের পার্শ্ববর্তী স্থানে কোনো গাইডওয়াল বা নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ​বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট কাদামাটি ও বিশাল গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়াই অং মার্মা মুঠোফোনে জানান, রোয়াংছড়ির অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব রক্ষা, স্থানীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন সহজীকরণ এবং সর্বোপরি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক টেকসই সংস্কার, ভাঙন প্রতিরোধক প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ এবং সার্বিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফরহাদ ফয়েজ জানান, রাস্তাটির ব্যাপারে তারা অবগত আছেন। সরেজমিনে পরিদর্শনও হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এলজিইডির সাথে আলোচনা হয়েছে। 

একটি নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি, এমনটাই জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লীষ্ট এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

এসএইচএ

বিজ্ঞাপন