বিজ্ঞাপন

পশুখাদ্য আর বিষাক্ত কেমিক্যালে সয়াবিন বড়ি তৈরি, লাখ টাকা জরিমানা

পশুখাদ্য আর বিষাক্ত কেমিক্যালে সয়াবিন বড়ি তৈরি, লাখ টাকা জরিমানা

পশুখাদ্যের ভুষি, ভুট্টার গুঁড়া ও মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে সয়াবিন বড়ি তৈরি হচ্ছিল যশোরে। শহরের বকচর হুসতলা এলাকার ‘ইমরান ফুডস প্রোডাক্টস’ নামের একটি কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই অপকর্ম। 

বুধবার (৯ সেপ্টেস্বর) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান চালিয়ে কারখানাটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

অভিযানে সয়াবিন বড়ি তৈরির পুরো প্রতারণামূলক প্রক্রিয়াটি হাতেনাতে ধরে ফেলেন কর্মকর্তারা। কম খরচে পণ্যের আয়তন ও ওজন বাড়াতে আসল কাঁচামাল বাদ দিয়ে মেশানো হতো সয়াবিনের ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়া। আর এই দুই উপাদানকে একসঙ্গে জমাট বাঁধাতে এবং সয়াবিন বড়ির আকৃতি দিতে ব্যবহার করা হতো ‘সাল্টু’ নামের একটি বিপজ্জনক কেমিক্যাল। নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে মেঝতেই খালি হাতে প্রস্তুত করা হতো এই বিষাক্ত মিশ্রণ।

পরবর্তীতে কৌশলে বাজারজাত করা হতো এই ভেজাল সয়াবিন বড়ি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্যাকেটের গায়ে কারখানা বা অফিসের কোনো আসল ঠিকানা লেখা হতো না। বেনামী রঙিন মোড়কে মুড়িয়ে প্রতিদিন কয়েকশ’ কেজি সয়াবিন বড়ি পৌঁছে দেওয়া হতো জেলার বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে।

কারখানার মালিক কায়ছার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার এবং প্রতারণামূলক মোড়কজাতকরণের দায়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ইমরান ফুডসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, পশুখাদ্য আর কেমিক্যাল খাইয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন করার এই অপচেষ্টা এক ধরনের অপরাধ। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান সামনে আরও জোরদার করা হবে।

অভিযানে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা প্রতিনিধি এবং পুলিশের একটি দল সহায়তা প্রদান করে।

রেজওয়ান বাপ্পী/এএমকে

বিজ্ঞাপন