খুলনায় অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ সাতজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাদের প্রত্যেকেই আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়াসীন আলী।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দৌলতপুর থানার ডিসি রোডের মেসার্স ইষ্টার্ণ ট্রেডসের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস, দৌলতপুর সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সাবেক গোডাউন কিপার মো. মতিয়ার রহমান, একই ব্যাংকের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মানিক চন্দ্র মন্ডল, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার মো. রুহুল আমিন, সাবেক প্রিন্সিপ্যাল আফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক অফিসার অজিত কুমার সরকার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৯ জুন থেকে ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইষ্টার্ণ ট্রেডসের মালিক এবং সোনালী ব্যাংকের উল্লিখিত কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ৮টি সিসি প্লেজ, পি সি সি এবং ব্লক ঋণ হিসেবের মাধ্যমে ৪৯ কোটি ৬২ লাখ ১৪ হাজার ২৩৭ গ্রহণ করে। কিন্তু তা পরিশোধ না করে তারা আত্মসাৎ করেন। বর্তমানে যার সুদাসলে ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহ. মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় ১৯৪৭ সালের ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
২০১৮ সালের ৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন উপসহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন আসামিদের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত মো. আশরাফুল ইসলামের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
মোহাম্মদ মিলন/এএমকে
