বিজ্ঞাপন

১৩ বছর পর দখলমুক্ত সরকারি কোয়ার্টার, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দেড় লাখ

১৩ বছর পর দখলমুক্ত সরকারি কোয়ার্টার, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দেড় লাখ

অবশেষে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের সরকারি কোয়ার্টার ছেড়ে চলে গেছেন শাহীনুর কামাল শাহীন। সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও প্রায় ১৩ বছর ধরে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসের অভিযোগ ওঠা শাহীন গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মালামাল সরিয়ে কোয়ার্টার ছেড়ে দেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) শাহীন কোয়ার্টার ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাদ বিন জাহাঙ্গীর জানান, গতকাল বিকেলে শাহীন তার মালামাল সরিয়ে নিয়ে সরকারি কোয়ার্টারটি ছেড়ে দিয়েছেন।

জানা গেছে, শাহীনুর কামাল শাহীন চুক্তিভিত্তিক আইসিটি উদ্যোক্তা। তিনি ২০১৪ সালে তিনি জয়েন করেন এবং ২০১৬ সালে তার মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও তিনি অবৈধভাবে ওই কোয়ার্টারে বসবাস করছিলেন।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন কোয়ার্টারে বসবাসকালে ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রায় দেড় লাখ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ না করেই শাহীন কোয়ার্টার ছেড়ে যাওয়ায় এ অর্থ কে বা কীভাবে পরিশোধ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি সামনে আসার পর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ওই কোয়ার্টারে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। বর্তমানে মিটারে রিচার্জের মাধ্যমে সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহীনুর কামাল শাহীনকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি সেবা নিয়ে দালালির অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, দুটি সরকারি কোয়ার্টারের একটিতে পরিবার নিয়ে বসবাস এবং অন্যটি গাড়ির গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের একটি কক্ষ ব্যবহার করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাম-ঠিকানা ও বয়স পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহীনুর কামাল শাহীনকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি কোয়ার্টার ছাড়ার নির্দেশ দেন। তবে এরপরও তিনি কিছুদিন কোয়ার্টারে অবস্থান করেন। সর্বশেষ ৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ছেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের দখলের অবসান হয়েছে। তবে প্রায় দেড় লাখ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল এবং শাহীনকে ঘিরে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের এখনো কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমার দায়িত্বকালে কোনো বিল বকেয়া নেই। পূর্বের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় বা এর দায় সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

মাসুদ আহমদ রনি/এসএইচএ