বিজ্ঞাপন

রাজশাহীতে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮

রাজশাহীতে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮

রাজশাহীর সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টির ‘কারূশ্রী জুয়েলার্স’ থেকে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সাত চোর এবং চুরি করা মালামাল ক্রয়কারী এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এরমধ্যে একজনকে খুলনা থেকে এবং অপর সাতজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানায়। এর আগে গত ১৯ জুন এই চুরির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন চোর সাহেববাজার এলাকার কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা ওই স্বর্ণের দোকানের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা পাকিয়ে পাশের স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর কারূশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেওয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সিন্দুক থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, ৩ বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে। 

এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের তত্বাবধানে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট এবং সিসি ক্যামেরা ইউনিট একযোগে কাজ করে চোরদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

চোরের এই টিমটি অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির এবং তারা এক মোবাইল একবারের বেশি ব্যবহার করে না। তাদের ব্যবহৃত সিমের সবগুলোই অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত। তারা খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কেউ এলাকায় থাকে না। তারা বছরে ১ থেকে ২টি বড় ধরনের চুরি করে। একটি চুরির পূর্বে ৩ থেকে ৪ মাস সেটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ওই স্থানে গিয়ে অপরাধ সংঘটন এবং নিরাপদ প্রস্থানের কৌশল নির্ধারণ করে। এ ঘটনারও চার মাস পূর্বে তারা এখানে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার নামে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে যায়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া পুলিশের আরেকটি টিম ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২), একই গ্রামের মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জ্বল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের মোসাকের ছেলে বর্তমানে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানা এলাকায় বসবাসরত আবু তালেব (৪৫), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের শেখ ফজলু শেখের ছেলে কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ইউনুসকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের নিকট প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সরকার বাড়ি বজনীখোলা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে রবিউল হাসানকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত রবিউল হাসানের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রয়ের নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে আদালতে উপস্থাপন করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

শাহিনুল আশিক/এএমকে

বিজ্ঞাপন