বিজ্ঞাপন

বাজারে অপরিপক্ব ফলের সয়লাবে সুনাম হারাচ্ছে খাগড়াছড়ির মাল্টা

বাজারে অপরিপক্ব ফলের সয়লাবে সুনাম হারাচ্ছে খাগড়াছড়ির মাল্টা

খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন বাজারে এখন সয়লাব অপরিপক্ব সবুজ মাল্টায়। বাহ্যিক সৌন্দর্য ও তুলনামূলক কম দামে আকৃষ্ট হয়ে ক্রেতারা কিনছেন এসব মাল্টা। কিন্তু ফলের স্বাদে মিলছে না প্রত্যাশিত রস ও মিষ্টতা। ফলে অপরিপক্ব মাল্টা খেয়ে জেলার সুস্বাদু ও রসালো মাল্টা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ভুল ধারণা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ির সবুজ মাল্টা সাধারণত অক্টোবর মাসে পরিপক্ব হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় এক মাস ধরে জেলার বাজারে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা বলছেন, পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায় থাকলে গাছ থেকে ফল ঝরে পড়ে এবং মাছিপোকার আক্রমণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। আবার একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ফল বাজারে এলে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এসব কারণে কিছুটা পরিপক্ব হলেই ফল তুলে বাজারজাত করছেন তারা।

খাগড়াছড়িতে বারি-১, বারি-২, মিশর ও পাকিস্তানের কয়েকটি জাতের মাল্টা চাষ হয়। এর মধ্যে বারি-১ জাতের মাল্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কৃষি বিভাগের দাবি, সঠিক সময়ে সংগ্রহ করা বারি-১ মাল্টা রসালো ও সুমিষ্ট। কিন্তু আগাম সংগ্রহ করা ফলের স্বাদ ও রসের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর খাগড়াছড়িতে প্রায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে মাল্টার চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনও ভালো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মাল্টা বিক্রি হতে পারে।

খাগড়াছড়ি বাজারে মাল্টা বিক্রি করতে আসা সুমন ত্রিপুরা বলেন, বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে ভালো মানের মাল্টা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাস ধরে বাজারে মাল্টা আসছে। কিছুটা পরিপক্ব হলেই চাষিরা তা বিক্রি শুরু করেন। তবে এ বছর বাইরের ব্যবসায়ী তুলনামূলক কম আসছেন।

অন্যদিকে বাজারে মাল্টা কিনতে আসা মো. আরিফ বলেন, সবুজ মাল্টা দেখতে সুন্দর এবং দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে তিনি চার কেজি মাল্টা কিনেছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপরিপক্ব মাল্টা বাজারজাত অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একবার ক্রেতারা কম রস ও কম মিষ্টতার মাল্টা খেয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতা পেলে পরে ভালো মানের মাল্টার প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

তাদের মতে, বাজার তদারকির পাশাপাশি চাষিদের পরিপক্ব ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে উৎসাহিত করতে হবে। এতে একদিকে ভোক্তারা মানসম্মত মাল্টা পাবেন, অন্যদিকে খাগড়াছড়ির মাল্টার সুনাম ও বাজার ধরে রাখা সম্ভব হবে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, চলতি বছর ৬৮০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মাল্টা বিক্রি হতে পারে।

তিনি বলেন, মাল্টা হার্ভেস্টের নির্ধারিত সময়ের আগেই বাজারে চলে আসছে এটি কৃষি বিভাগের নজরে রয়েছে। চাষিদের এ বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খাগড়াছড়ির বারি-১ জাতের মাল্টা পরিপক্ব হলে রসালো ও সুমিষ্ট হয়।

মাছিপোকার আক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাষিদের সেক্স ফেরোমন ফাঁদসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পোকা দমনে কার্যকর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাল্টায় থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় খাগড়াছড়িতে দিন দিন বাড়ছে এ ফলের আবাদ। 

মোহাম্মদ শাহজাহান/আরকে

বিজ্ঞাপন