‘আমার ছোট ভাইয়ের ছোট্ট একটা বাচ্চা আছে, আড়াই বছর বয়স। ও এতিম হয়ে গেল। সারাদিন খোঁজে বাবা আর বাবা। কিন্তু কালকে নাকি একবারও বাবা বলে ডাকে নাই, ওকে (রিফাত) খোঁজেনি।’ এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের ভাই দীপ্ত। দীপ্ত রিফাতের বড় ভাই হলেও শৈশবে একইসঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাবশত গোলা বিস্ফোরিত হলে সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ দুইজন সেনাসদস্য প্রাণ হারান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে সামাজিক ও সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
দীপ্ত জানান, ২০১৮ সালে তার (রিফাত) চাকরিটা হয়। চাকরির বয়স আট বছর পাড় হয়েছে। দুর্ঘটনার পরে একটা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তখন শুভাকাঙ্খীরা ফোন দিয়ে জানতে চান, “এটা রিফাত কি না”। তারপর আমরা ছবি দেখে কনফর্ম করি, এটা আমার ভাই। আমার ভাইয়ে স্ত্রী কোয়াটারে থাকতো, তাকে আমরা ফোন দিই। সেও বিষয়টা অবগত ছিল না। সে জানার পরে তার ব্যাচমেটদের ফোন দিলে তারা জানান, এই রকম একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে উল্লেখ করে দিপ্ত বলেন, লাস্ট বাড়ি এসেছিল গত কোরবানির ঈদে। ঈদের ছয় দিন পরে চাকরিতে গেছে, এটাই শেষ দেখা সরাসরি।
পরিবারে বাবা ও ছোট ভাই আছে। আমরা দুই ভাই একইসঙ্গে পড়াশোনা করেছি স্কুল পর্যন্ত। আমরা একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া-আসা করতাম। তারপর আমরা আলাদা হয়েছি। সে প্রচুর চঞ্চল ছিল। কেউ বলেনি যে চাকরি করতে পারবে। যখন চাকরি হয়েছে, তখন একদম শান্ত হয়ে গেছে। তার চঞ্চলতা জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। চাকরি করতে চাইতো না, পরিবারের তাগিদে চাকরি করা।
বাকরুদ্ধ বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, আমার জীবনটা অনেক কষ্টের। তার সব স্মৃতিই আমার কাছে অমলিন। ১৫ বছর আমার স্ত্রীর ক্যান্সার ছিল। তার চিকিৎসার জন্য ভারত নিয়ে গেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মারা যায়। সব মিলিয়ে খারাপের মধ্যেই আছি। ছেলেটা সবশেষ কোরবানি ঈদে এসেছিল। তার পরে আর আসেনি। আমার সঙ্গে পাঁচ-সাত দিন আগে কথা হয়েছে। এটাই শেষ কথা।
প্রসঙ্গত, তিন বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রিফাতের মা মারা যায়। এবার মাত্র ২৮ বছর বয়সী ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলাম। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সী কন্যাসন্তান রেখে গেছেন এই সেনাসদস্য।
শাহিনুল আশিক/এএমকে
