নারায়ণগঞ্জে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের অবসান হয়েছে। সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা বিল্লালের মরদেহ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে মরদেহটি তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিল্লালের মৃত্যুর পর তার মরদেহের শেষকৃত্য কীভাবে হবে, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। তার বাবা হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি জানান। বিপরীতে বিল্লালের স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সেই অনুযায়ী বিল্লালও মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করতেন। তাই তার মরদেহ ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী দাফন করতে হবে। এ বিরোধের কারণে কয়েক দিন ধরে বিল্লালের মরদেহ হিমঘরে রাখা ছিল।
রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হন শুভ ওরফে বিল্লাল। পরে তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময়ই ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
আদালতে করা রিট আবেদনে বলা হয়, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর শুভর নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল। পরে তিনি মাদরাসায় পড়াশোনাও করেন।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের সংসারে দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
বিল্লালের মৃত্যুর পর মরদেহ দাফনের বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তার স্ত্রী প্রথমে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। সেখান থেকে কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
রিটে বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী দাফনের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মরদেহটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়েছিল।
শুনানিতে বিল্লালের ভাই সজীব চন্দ্র দাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল তাকে কোরআন থেকে একটি সূরা পাঠ করতে বলেন। সজীব আদালতে সূরা ইখলাস পাঠ করে শোনান।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মুসলিম নারী-পুরুষের বিয়ের বৈধতার বিষয়টি ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিল্লালকে মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে তার বিয়ের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। একইসঙ্গে তাদের দুই বছর বয়সী সন্তানের পিতৃত্ব ও পরিচয় নিয়েও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়ে আদেশ দেন। এর ফলে কয়েক দিন ধরে হিমঘরে থাকা বিল্লালের মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের আপাতত অবসান হলো।
মেহেদী হাসান সৈকত/এএমকে
