গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সন্তানদের সামনেই গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলায় যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এরআগে গত ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া খানকা মাদরাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পাটগাতি ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সোহাগ কাজী ও আকবর নামে এক কর্মী।
এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই নারী গুরুতর আহত অবস্থায় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ ও মামলা চলমান থাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বাইরে থাকেন। ঘটনার সময় সন্তানদের নিয়ে আমি একাই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। গভীর রাতে ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে আমার সন্তানদের সামনে আমার হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। এসময় আমি বাঁধা দিতে গেলে আমার সাথে তাদের ধস্তাধস্তি বাধে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আমি একজনের দাঁড়ি টেনে ধরি। পরে সে আমাকে ঘুষি দিলে আমার দাঁত পড়ে যায়। এরমধ্যে আমি আকবর ও সোহাগকে চিনতে পেরেছি।
প্রতিবেশী আমেনা নামে এক নারী বলেন, ঘটনার পরও (ভুক্তভোগী নারী) আমার দরজায় এসে আওয়াজ দেয়। আমি ভাবসি কে না কে। পরে দরজা খুলতেই দেখি আমার দরজার সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে সে (ভুক্তভোগী নারী)। তখন সে পুরো উলঙ্গ। পরে আমরা তার গায়ে একটি কাপড় জড়িয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।
ভুক্তভোগী নারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়রা আজ সকালে যুবদল নেতা সোহাগ ও আকবরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে একপর্যায়ে সোহাগ ও আকবর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী বলেন, এ ঘটনায় থানায় ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে সোহাগ কাজী ও আকবরের নাম উল্লেখ ও দুইজনকে অজ্ঞাত করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা এজাহারনামীয় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আশিক জামান অভি/এসএইচএ
