বিজ্ঞাপন

পদ্মার ভাঙনে বিলীন ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠদান নিয়ে শঙ্কা

পদ্মার ভাঙনে বিলীন ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠদান নিয়ে শঙ্কা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মা ভাঙনে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থমকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের মালামাল অন্যত্র স্থানান্তর করা হলেও সেখানে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় তিনটির পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বলছেন, দুর্গম এলাকা হওয়ায় শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহ কম। তারপর স্কুল ভেঙে গেছে নদীতে। এমন অবস্থায় দ্রুত পাঠদান শুরু করা না গেলে অনেক শিক্ষার্থীই ঝরে পড়বে। তবে স্কুলগুলোর আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৮৫ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন ৩ জন শিক্ষক। সেই স্কুলটাও পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেল। পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত নদীগর্ভে চলে গেল স্কুল। এই মৌসুমে বলা মুশকিল, কারণ পদ্মার চরের আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হবে স্কুল নেই। শেষ পর্যন্ত স্কুল স্থানান্তর করতে করতে বিলীন হয়ে গেল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নিতে নিতে ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে নদীগর্ভে চলে গেছে। স্কুলের অনেক কিছু নিতে পারা যায়নি।

বিদ্যালয়গুলো হল- চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুধু বিদ্যালয়গুলো নদী ভাঙনের কবলে পড়েনি, নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে এই ইউনিয়নে বসবাস করা মানুষগুলোও। তাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরমধ্যে চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, বিলীন, চৌমাদিয়ায়া, দিয়ারকাদিরপুরসহ ১৫টি চরে ১ হাজার ২০০ পরিবারে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শতাধিক বাড়ি ও মসজিদ পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

চৌমাদিয়া চরের বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই ভাঙছে নদীর পাড়। অনেক মানুষ চর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এসময় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। এছাড়া ভাঙনের কবলে পড়েছেন ১৫টি চরের হাজারও মানুষ। আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। লোকালয়ে এখন বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হবে। 

সফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাস করা যেমন কঠিন, তেমনি কঠিন সন্তানদের শিক্ষিত করা। এসব চরে লেখাপড়ার তেমন পরিবেশ নেই। শিক্ষাগ্রহণে ছেলে-মেয়েদের আগ্রহ কম। তারপর স্কুল ভেঙে গেছে নদীতে। এমন অবস্থায় দ্রুত পাঠদান শুরু করা না গেলে অনেক শিক্ষার্থীই ঝরে পড়বে। 

স্থানীয়দের দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি শুরু করে। এরমধ্যে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের মালামাল অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আতারপাড়ায়, ২ নম্বর ওয়ার্ড চৌমাদিয়ায়া এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ারকাদিরপুর চরের জয়নাল আবেদিন, মুসা হালদার, আজগর মোল্লা, আনোয়ার শিকদার, আনজিরা বেগম, পারুল বেগম, তাজেল গাজি, আজিজ গাজি, আকবর আলী, আলম ব্যাপারী, মাজেদা বেগম, তরিকুল ইসলাম, হোসেন আলী, দিলু দর্জি, জালাল উদ্দিন, জলিল মোল্লা, সানোয়ার মোল্লা, ফারুক ব্যাপারী, আবু মোল্লা, ইব্রাহীম হালদার, বাবলু হালদার, আয়নাল মোল্লা, কাদির গাজি, ফরুক ব্যাপারী-২, আমাল ব্যাপারী, ফজল হালদারসহ ১০০টি বাড়ি ও ফলাশি ফতেপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা অন্যস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর চৌমাদিয়ায় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবদুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এরফলে স্কুল, মসজিদ ছাড়াও মানুষের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে হাজারও মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। তারা নদীর চর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। 

চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই, স্কুল ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষক রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বাঘা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মো. মামুনুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালকদার বলেন, নদীভাঙন ও বিদ্যালয় পরিদর্শন করে আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দিদের সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শাহিনুল আশিক/এসএইচএ