দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেল ৪টার আগে বন্ধ করা যাবে না। শিক্ষকরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা ও সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাটের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে শিক্ষার মানোন্নয়নে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষা ও কলেজ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আত্মসম্মান রক্ষায় শিক্ষকদের প্রতিবাদ করতে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তাদের পেছনে শক্তিশালী প্রশাসন রয়েছে। কেউ অনাচার করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দাবি-দাওয়া ও আলোচনা থাকতে পারে, তবে কোনো শিক্ষককে তালাবদ্ধ করে রাখা মেনে নেওয়া হবে না।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে দুই থেকে তিন মিনিট সামাজিক অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যৌতুক, বাল্যবিবাহ, মাদক, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি পরীক্ষায় পাস না করলে ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না—এ বিষয়টি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগে থেকেই জানাতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্যোগ শুরুর দুই মাস কয়েক দিনের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উপস্থিতি বেড়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘না’ বলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত সচেতনতার মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস প্রমুখ।
এর আগে মন্ত্রী লালমনিরহাট সদর উপজেলার সকল মাধ্যমিক (মাদরাসা/কারিগরি) ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রচার উপকরণ বিতরণ করেন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ
