নিজ ভিটেমাটিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৭৩ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোলায়মান। রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা তার বসতঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গ্যাসের বোতল বিস্ফোরণের চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জামালপুরের মেলান্দহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার ৩ নং মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দ গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোলায়মান (৭৩) গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতের খাবার শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তার বসতঘরে থাকা বোতলজাত গ্যাসের পাশে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আগুন জ্বলতে দেখে মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মানের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম (৬০) ও তার স্ত্রী মোছা. মাহমুদা খাতুন (৫৫) চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতকারীরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান জানান, স্বাধীন দেশে আজ তাকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুড়ে মরার ভয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তিনি জানান, তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু নেই, তবে চর গোবিন্দ বাজারের একটি জমি নিয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী সরকারদলীয় নেতার সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
রাতের অন্ধকারে মুখ ঢাকা দুষ্কৃতকারীদের তিনি নিজ চোখে দেখতে পাননি বলে সুনির্দিষ্ট কারও নাম অভিযোগে উল্লেখ করেননি।
ভবিষ্যতে দুষ্কৃতকারীরা আবারও তার ও তার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতির চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আকুতি জানিয়ে তিনি মেলান্দহ থানায় একটি জিডি করেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পরিবারসহ শান্তিতে বসবাস করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ. টি. এম মাহমুদুল হক বলেন, রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়েই আমাদের তদন্ত কেন্দ্র থেকে পুলিশ কর্মকর্তা (বেলাল) রাতে ঘটনাস্থলে যান। রাতের আঁধারে কে বা কারা ওই মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির বারান্দায় আগুন লাগিয়েছে, তা জানা যায়নি। রাতে ঘটনাটি ঘটায় কারো নাম সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি। তবে স্থানীয় বাজারে বা ব্যক্তিগতভাবে কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, আমরা সে বিষয়গুলো বিবেচনা করে খতিয়ে দেখছি।
তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আমাদের টিম জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। যারাই এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এসআর/এমএসএ
