১৯টি জেলার আশপাশের উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সুফল পাবেন বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে ইশতেহার অনুযায়ী পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিনে এসে এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পদ্মা-গড়াই মোহনা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ও আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করেছিলাম, এ দেশের জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দেওয়ার পর ইনশাআল্লাহ আমরা দৃশ্যমান পদ্মা ব্যারেজ সবার সামনে নিয়ে আসব। নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের সভায় প্রথমেই ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্ভবত আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে। ২০০৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এর কাজ শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে সেই কাজ শেষ হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পটি দৃশ্যমান হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি জাতির সামনে কমিটমেন্ট দিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইশতেহারে নিয়ে এসেছেন। আমরা আশা করছি, আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে তিনি সরেজমিনে আসবেন এবং এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
পদ্মা ব্যারেজের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি কার্যক্রমে গতি আসবে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ও বন্যার কারণে যে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এই প্রকল্প।
তিনি বলেন, নদীর প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি ঠিক না থাকায় অনেক সময় নদীর তীরের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বসতবাড়ি, বাজারসহ স্থানীয় জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় খালসহ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন জলপ্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে কৃষি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থাও ভারসাম্য হারায়।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রকল্পের অবকাঠামোর বিষয়ে বলেন, মূল পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা নদী ও গড়াইয়ের সংযোগস্থলেও একটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে, যেটিকে গড়াই অফটেক বলা হচ্ছে। সেখানে মাছের চলাচলের জন্য ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গেট ও আন্ডার স্লুইস থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ বেনিফিট যেন এই এলাকার মানুষকে দেওয়া যায়, এটাই আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আজ আমরা সরেজমিনে এসেছি এটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই আমাদের এই অঞ্চলে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে এবং আপনারা এই সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
পদ্মা ব্যারেজ দৃশ্যমান হলে ভারতের মাথাব্যথার কারণ হবে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমাদের স্বার্থটা রক্ষা করেই কাজ করছি। এই স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা লাগবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দৌলতপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব রউফ চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রবিউল আলম ইভান/এসএইচএ
