বগুড়ার শেরপুরে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটের বিরুদ্ধে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যরা। হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেরপুর পৌর শহরের ফলপট্টি এলাকায় মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর থানায় এজাহার দিয়েছেন।
অভিযুক্ত সম্রাট শেরপুর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এজাহার ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরপুর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও রাফাতের বাবা প্রবাসী ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের কাছে চাঁদা দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল করে নেওয়া এবং শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে সম্রাটের প্রত্যক্ষ মদদে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একদল লোক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে কর্মচারীদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ধমক দিচ্ছেন। এ সময় তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান ও তার সন্তানদের খোঁজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তারা প্রতিষ্ঠানের শাটার নামিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের টেবিলে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী ও মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স এবং সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বলেন, আমি শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এরপরও আমাদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এমন হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত ও হতবাক।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যুবদলের নাম ব্যবহার করে তরিকুল ইসলাম সম্রাট সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল করে ভাড়া-বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় তার লোকজন দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী ও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, তা আমরা কখনো ভাবেননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম সম্রাটের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে বলেন, পরে কথা বলি, কাজ করছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ঘটনা জানার পর আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় একটি এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আব্দুল মোমিন/এসএইচএ
