বিজ্ঞাপন

নারী নিয়ে মাদক সেবন, বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

নারী নিয়ে মাদক সেবন, বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মৃত  স্ত্রী আল মায়িদা আক্তারকে (২০) হাসপাতালে ফেলে পালানোর ঘটনায় স্বামী সিয়াম আল মুরসালিন আকাশের (৩০) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সিয়ামকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। একইদিনে হত্যার শিকার মায়িদার মা রহিমা বেগম পলাশবাড়ি থানায় এই মামলা দায়ের করেন। রহিমা বেগম পলাশবাড়ি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবিশ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মামলার একমাত্র নামীয় আসামি করা হয়েছে সিয়াম আল মুরসালিন আকাশকে । এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে দুই থেকে তিনজনকে। আসামি সিয়াম আল মুরসালিন আকাশ পলাশবাড়ি উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের মৃত মাজহারুল ইসলাম সন্টুর ছেলে। 

হত্যার শিকার মায়িদা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের অনার্স (সমাজ বিজ্ঞান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বাদ আছর নামাজে জানাজা শেষে পারবারিক কবরস্থানে দাফন হয় তাকে।

নিহত মায়িদার চাচা মাজেদুর রহমানের অভিযোগ, গতকাল বিকেলে নিজের বাড়িতে অন্য মেয়ে নিয়ে মাদক সেবনের সময় আপত্তি জানায় মায়িদা। এর জের ধরে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, সিয়ামের বাড়িতে মাদক সেবনের জন্য আলাদা রুম আছে। সেখানে বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করতো সিয়াম। কিন্তু গতকাল তিন বন্ধু এবং এক নারীসহ ৫ জন মিলে মাদক সেবন করে। এতোদিন বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করলেও তা সহ্য করে গেছে নিহত মায়িদা। কিন্তু গতকাল বিকেলে নারী নিয়ে মাদক সেবনে আপত্তি জানায় আমার ভাতিজি মায়িদা। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে মায়িদাকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মারপিটে প্রাণ গেলে মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝোলানো হয়।

তিনি আরও জানান, গলায় ওড়না বা রশি দিয়ে বাধার সময় তাদের ৪ বছরের ছোট্ট শিশু আয়াশ মায়ের কাছে গেলে শিশুকে স্ত্রীর সাথে খেলা খেলানোর কথা বলে বোঝায় সিয়াম। শিশুটি পুলিশের কাছেও তা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন নিহত মায়িদার চাচা মাজেদুর।

নিহতের পরিবার, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে মায়িদাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সিয়াম আল মুরসালিন আকাশ।

সিয়াম আগে থেকেই নেশা করতেন। বিয়ের পর কারণে-অকারণে স্ত্রী মায়িদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে সিয়াম। তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। দুই, তিন দিন আগেও সিয়াম স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন।

হত্যার পর নিজেই প্রাইভেটকার ড্রাইভ করে স্ত্রীকে পলাশবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মায়িদাকে মৃত ঘোষণা করলে পালিয়ে যান সিয়াম। পরে খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ পলাশবাড়ি থানায় নেয় পুলিশ। পরদিন দুপুরে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। 

পরে স্থানীয়দের খবরে সিয়ামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পলাশবাড়ি থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত আল মায়িদার মা বাদি হয়ে জামাতা সিয়ামকে একমাত্র আসামি এবং অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় সিয়ামকে।

পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযুক্ত স্বামী মোরসালিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে, তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশে পূর্বের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মাসুম বিল্লাহ/এনটি

বিজ্ঞাপন