বিজ্ঞাপন

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু : পাঁচ চিরকুট ঘিরে তদন্তে পুলিশ

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু : পাঁচ চিরকুট ঘিরে তদন্তে পুলিশ

বরিশাল নগরীর প্যারারা রোড এলাকায় দৈনিক সমকালের বরিশালের অফিস থেকে পত্রিকাটির সাবেক ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তার হাতে লেখা পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটগুলো যাচাই করে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর অফিসের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলক চ্যাটার্জি তার স্ত্রী ও মেয়ে, ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জি, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন চৌধুরী এবং প্রশাসনের উদ্দেশ্যে পৃথক পাঁচটি চিরকুট লিখে গেছেন।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ করেছেন পুলক। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার নানা চেষ্টার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ নিয়ে যেন পরিবারের সদস্যদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে অনুরোধও করেছেন তিনি।

স্ত্রী প্রিয়াংকা ও মেয়ে প্রকৃতির উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। ছোট ভাই দীপককে স্ত্রী ও মেয়ের পাশে থাকার অনুরোধও করেছেন তিনি।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও স্মৃতির কথা উল্লেখ করে পরিবারের পাশে থাকার অনুরোধ করেছেন পুলক।

ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জি ও তার স্ত্রী ইতির উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে স্ত্রী ও মেয়েকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার ব্যাংক হিসাব ও মুক্তিযুদ্ধের ভাতাসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।

দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে একসঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন পুলক। কোনো কারণে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে সমকালে তার পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টিও দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার কোনো এক সময় পুলক চ্যাটার্জি সমকাল অফিসে আসেন। সন্ধ্যায় সুমন চৌধুরী অফিসে এসে বাইরে থেকে তালা খোলা দেখতে পান। তবে দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। বিষয়টি তিনি পাশের অফিসের সহকর্মী ও বাড়ির মালিককে জানান। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে ভেতর থেকে পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা গেছে, পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বরিশালের ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে সমকাল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে। এরপর থেকেই তিনি হতাশায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

চাকরি না থাকলেও সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন চৌধুরী তাকে সম্মান দেখিয়ে অফিসের একটি চাবি দিয়েছিলেন। পুলককে বলা হয়েছিল, আগের মতো তিনি যখন ইচ্ছা অফিসে এসে বসতে পারবেন। এরপর থেকে মাঝে মধ্যে তিনি সমকাল অফিসে এসে বসতেন।

বর্তমানে সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক সুমন চৌধুরী বলেন, পুলক চ্যাটার্জির কাছে অফিসের একটি চাবি থাকত। তিনি প্রায়ই রাতে অফিসে এসে সময় কাটাতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি অফিসে এসে দেকি ভেতর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। পরে দরজা একটু ফাঁক করে ভেতরে তাকিয়ে পুলক চ্যাটার্জিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করে। 

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি উদ্ধার করা চিরকুটগুলো যাচাই করে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

পুলক চ্যাটার্জি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য ছিলেন। এছাড়া বরিশালে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ব্যুরো প্রধানদের সংগঠন ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশনের (এনডিবিএ) সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।

আরকে