কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকট কাটাতে খনন কাজ শেষ হলেও এখনো ফেরি না আসায় ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা। উত্তর অঞ্চল থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে চিলমারী-রৌমারী নৌরুট থেকে সব ফেরিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে এ নৌরুট এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকটের দেখিয়ে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে সর্বশেষ ফেরি কদম গত ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। এর ফলে বর্তমানে পুরো নৌ রুটটি ফেরিশূন্য হয়। নৌপথে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫ জুলাই থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের কারিগরি পরামর্শে চিলমারী নৌ বন্দর ঘাট, রৌমারী ঘাট, খেরুয়ারচর হতে দুই বিঘা পর্যন্ত সাকশন ড্রেজার দিয়ে খননের কাজ গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) শেষ হলেও ফেরি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে। পলি জমে যাতে আবারও নাব্যতা সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যবসায়ী লোকম হোসেন বলেন, ফেরি বন্ধ হওয়ায় আমাদের খুব অসুবিধা হইছে। ঢাকায় পণ্য নিয়ে গেলে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা বেশি লাগে। তাই সরকার যেন ফেরি চালু করি দেয়।
চিলমারী নৌবন্দর এলাকার খলিল মিয়া বলেন, নাব্যতার অজুহাত দেখিয়ে বেশিরভাগ ফেরি বন্ধ থাকে। এতে আমরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই ফেরি যেন আর বন্ধ না হয়।
বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সমীর চন্দ্র পাল বলেন, চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিলমারী নদীবন্দরের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) ও এরিয়া ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অনুলিপি কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে ড্রেজিংয়ের পরপরই চ্যানেলটি সচল রাখা এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে।
এদিকে পাটুরিয়া, আরিচা, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল অঞ্চল মিলে রোস্টার আউট নামে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫টি ফেরি পারাপারের গাড়ি না থাকায় অলসভাবে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং ফেরি কুঞ্জলতা ডকিং মেরামত শেষ করে চিলমারী নৌবন্দরে প্রেরণ করা হয়নি।
চিলমারী-রৌমারী ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নৌ রুটে বিআইডব্লিউটিএয়ের উদ্যোগে এ নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর। উদ্বোধনের পর দেড় মাসের অধিক সময় নিয়মিত দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন পারাপার করে আসছে। প্রতি ট্রিপে ফেরি কুঞ্জলতা ৮ থেকে ৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২ থেকে ১৩টি ও কদম ৮ থেকে ৯টি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করতো। এর মধ্যে বেগম সুফিয়া কামাল, কুঞ্জলতা ও কদম ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে ফেরি বন্ধ রয়েছে।
এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও শ্রমিকরা। ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট থেকে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতার কারণ দেখিয়ে ফেরি চলাচল ৫৪১ দিন বন্ধ ছিল।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, খনন বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। সেই সঙ্গে ফেরি আসার জন্যও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/আরকে
