ভোলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে নিখোঁজের ৩ দিনের মাথায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মো. আমজাদের (২৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মেঘনায় নিখোঁজ হওয়া ২ বন্ধুরই মরদেহ উদ্ধার হলো।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ৩টার দিকে ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর মিজানের চরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমজাদ ভোলা পৌরসভার কালীবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রোমায় কর্মরত ছিলেন।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার ‘গরিবের দুবাই’ খ্যাত মেঘনা নদীর তীরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মির্জাকালু নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সনাতন চন্দ্র সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলে ও স্থানীয়রা চরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে নৌপুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে মরদেহটি মেঘনা নদীতে নিখোঁজ বিজিবি সদস্য আমজাদের বলে শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় আমজাদ, রাকিব, ফাহিম ও শাওনসহ মোট ৫ বন্ধু মেঘনা নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডার একপর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বসানো জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একাংশ হঠাৎ ধসে নদীতে পড়ে যায়। এতে ৫ বন্ধুই খরস্রোতা নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে ৩ জন সাঁতর কেটে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন।
৩ বন্ধুর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাননি। পরে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভোলা সদর উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, সদর মডেল থানা পুলিশ ও নৌপুলিশের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে ওই সময় তাদের পাওয়া যায়নি।
এরপর গতকাল শুক্রবার সকালে ভাসমান অবস্থায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে সেখানকার নৌপুলিশ। সর্বশেষ আজ শনিবার আমজাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
মো. খাইরুল ইসলাম/এমএমবি
