ফরিদপুরের মধুখালীতে তিনটি কার্টনে ভরা অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই ব্যক্তি একজন পুরুষ এবং তার আনুমানিক বয়স ৫০ বছর বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ধারণা, তাকে অজ্ঞাত স্থান থেকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে আনুমানিক দেড়শ মিটার দূরে মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি কাঁচা সড়কের ঢালের ঝোপের আড়াল থেকে ওই কার্টনগুলোর মধ্যে থেকে মৃত মানুষের খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ডান পাশে লাভলু মল্লিক ও ইসহাক মিয়ার ধানখেতের পাশে একটি তালগাছের গোড়ায় তিনটি মুখ বাঁধা কার্টন দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। ওই কার্টনগুলো থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে এলাকাবাসী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে মধুখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কার্টন তিনটি উদ্ধার করেন এবং প্যাকেটগুলোর ভেতরে বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মৃতের শরীর ৬টি অংশে খণ্ডিত ছিল। যার মধ্যে মাথা থেকে বুক পর্যন্ত একটি অংশ, বুক থেকে কোমর পর্যন্ত আরেকটি অংশ এবং দুই পায়ের চারটি খণ্ডিত অংশ রয়েছে। এছাড়া তার দুই হাতের আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) এস এম মাসুদুজ্জামান, মধুখালী থানার কর্মকর্তাগণ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের ক্রাইমসিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় সিআইডি ও পিবিআই বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, মরদেহটি তিনটি কার্টনে প্যাকেট করা এবং অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো স্থানে হত্যা করে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। মৃতের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। এছাড়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।
মধুখালী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ হাসান বলেন, মরদেহের অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জহির হোসেন/আরএআর
