বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহে ব্যবসায়ীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

ময়মনসিংহে ব্যবসায়ীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আব্দুল সাত্তার (৬৬) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এরআগে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব পৌর গোরস্তানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ফরহাদ হোসেন জনি (৩৫) পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি বেকার মুক্তি আন্দোলন, মাদক বিরোধী আন্দোলন ও বাল্যবিবাহ বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটের দিকে ফরহাদ বাসা থেকে বের হন। রাত ১০টা ২১ মিনিটের দিকে মুক্তাগাছা পৌরসভার মধ্যহিস্যা এলাকায় নিহতের বাসার সামনে টিনের সীমানা প্রাচীরের বাইরের ফাঁকা স্থানে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ২ জন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে ফরহাদের মুখ চেপে ধরে পাউডার জাতীয় কিছু ছিটায় এবং পরবর্তীতে শরীরে দাহ্য পদার্থ (পেট্রোল) ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

আগুন লাগার পর নিজেকে বাঁচাতে ফরহাদ পাশে থাকা ডোবার কাদাপানিতে গড়াঘড়ি করেন। তবে আগুন না নেভায় এবং শরীরের কাপড় পুড়ে যাওয়ায় তিনি নগ্ন ও দগ্ধ অবস্থায় দৌড়ে প্রধান সড়কের দিকে আসেন এবং শাকির কম্পিউটার সংলগ্ন একটি সেলুনের সামনে পাকা রাস্তার ওপর পড়ে যান।

তার চিৎকারে পরিবার ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর কোতোয়ালী থানা পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে ওই দিনই বাদ মাগরিব মুক্তাগাছা পৌরসভার লক্ষিখোলা পৌর গোরস্তানে মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরহাদের বাড়ির পাশে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসত। সামাজিক আন্দোলন ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় মাদকসেবী ও স্থানীয় কিছু লোকের সাথে তার পূর্ব বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল। এজাহারেও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে একজন অজ্ঞাত সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাসপাতালে ফরহাদের কাছে আসায় তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এই সামাজিক ও মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের ধারণা।

ঘটনার সতত্য নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবার দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সাখাওয়াত সুমন/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন