রংপুরে পৃথক দুই উপজেলা থেকে দুই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই দুই ঘটনায় শ্বশুড়বাড়ির লোকজনকে সন্দেহ করছে ভুক্তভোগীর পরিবার। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় শ্বশুড়বাড়ির নিজ শয়নকক্ষ থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর।
শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিল্লানির মাজার এলাকা ওই গৃহবধূর শ্বশুড়বাড়ির নিজ শয়নকক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ওই গৃহবধূ এলাকার শামীম মিয়ার স্ত্রী। এই নবদম্পতির সংসারে রয়েছে একটি কন্যা সন্তান।
পুলিশ জানায়, গৃহবধূ আরিফার নিজ শয়নকক্ষের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
আরিফার বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, ২০২৪ সালে শামীমের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে হয় আরিফার। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এরপরও আরিফাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
আরিফার মা রওশন বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে ওরা হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমার নাতনিকে খুঁজে পাচ্ছি না।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফার শাশুড়ি আফরোজা বেগম ঢাকার লাকসামে ছিলেন। ঘটনার দুই দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। আরিফার ননদ শিমুও ঘটনার সময় ওই বাড়িতে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে আরিফার স্বামী শামীম ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের উত্তর বাওচণ্ডির খামার কোল গ্রামে আরেক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই নারী উপজেলার শ্যামপুর আদর্শ পাড়ার বাসিন্দা মাসুম মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৩৫)। এ দম্পতির সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু সংসারে তাদের প্রায়ই ঝগড়া লেগেই থাকতো। এজন্য শরিফা তার সন্তানদের নিয়ে গত তিন বছর থেকে বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন শরিফা। বাবার বাসায় থাকাকালীন, স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজ নিতেন স্বামী মাসুম এমন অভিযোগ রয়েছে।
বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ
