চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ জনকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) এবং তাদেরকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে একজন বৃদ্ধ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—এক মাস বয়সী শিশু মোসা. তানিসা, মো. রাসেল (২৬), মো. সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহিম (৫০), মো. সানাউল্লাহ (৯), আলামিন (৯), ইব্রাহিম (৬০), মোসা. সখিনা (৪৫), মোসা. নিলুফা (৩৫) ও মোসা. তানিয়া (২২)। তাদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জোহরপুর টেক-বকরিপাড়া এলাকায়।
এদিকে একই নৌকায় থাকা মো. ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তবে মো. মোস্তফা (৬০) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সদর উপজেলার বাখর আলী থেকে জোহরপুর বকরি পাড়া এলাকায় নদীপথে যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। স্রোতের চাপে নৌকাটি ডুবে গেলে এতে থাকা ১২ জনের মধ্যে ১০ জনকে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি টহলরত বিএসএফ সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে গিয়ে উদ্ধার করেন।
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন বলেন, সদর উপজেলার বাখরআলী ঘাট থেকে ডিঙি নৌকাযোগে জহরপুর ক্যাম্পের এবং ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় আসছিল ১১ বা ১২ জনের একটি দল। এই সময় ডিঙি নৌকাটি ডুবে যায়। পরে সাঁতার কেটে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১০ বা ১১ জন ভেসে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করলে তাদেরকে খানদহ ক্যাম্প বিএসএফ উদ্ধার করে। তারা এখন ভারতের বিএসএফ এর কাছে আছে বলে শুনেছি। এছাড়া এই নৌকায় নারী পুরুষ ও শিশু ছিল বলেও জানা গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ১০ জনকে উদ্ধার করেছে বিএসএফ এর খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা। আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে ফেরত দিয়েছে।
এ ঘটনার বিষয়ে গোদাগাড়ী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক জীবন চন্দ্র রায় জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
মো. আশিক আলী/এসএইচএ
