বিজ্ঞাপন

ফেনীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ১১ দিনে গ্রেপ্তার ২১৬

ফেনীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ১১ দিনে গ্রেপ্তার ২১৬

ফেনীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে চলতি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১১ দিনে ২১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মলম পার্টির সদস্য, মাদক কারবারি, মাদকসেবী, চুরি ও ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

ফেনী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় ২৭টি মামলা করা হয় এবং ওই সময়ে ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সর্বশেষ শনিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযানে আরও ২১ জন গ্রেপ্তার হওয়ায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৬ জনে।

পুলিশ জানায়, সর্বশেষ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আশরাফুল জামান সোহাগকে (২০) মহিপাল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাগাজী উপজেলার ছাড়াইতকান্দি এলাকার আব্দুল হকের ছেলে। এছাড়া ডাকাত দলের সদস্য সাইফুল ইসলাম রিয়াজকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকার নূর খাতুনের ছেলে।

অভিযানে ধর্মপুর এলাকা থেকে একাধিক মাদক মামলার আসামি ও মাদক কারবারি মো. সেলিমকে (২৪) ৫০ বোতল বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়। মধ্যম চাড়িপুর জজ কোর্ট কলোনির ভেতর থেকে দেশীয় তৈরি ১০ লিটার চোলাই মদসহ মো. হৃদয় (২০) ও তার মা রাবেয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া শাহরিয়ার হোসেন (২২), শহিদুল ইসলাম সুমন (৩৪) ও মো. রুবেলকে (২৬) ২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আবু বক্কর (২৩) নামে একজনকে তিন বোতল বিয়ারসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও মাদকসেবীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে শহরের স্টারলাইন বাস কাউন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে মলম পার্টির সদস্য লিটন মিয়া প্রকাশ সুমনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দক্ষিণ এলাইচ ডোমবাড়িয়া এলাকার সুরজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ আরও জানায়, মলম পার্টির সদস্যরা স্টারলাইন বাসে বিদেশফেরত যাত্রীদের কৌশলে চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে সর্বস্ব নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যেত। লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া মহিপাল থেকে লেমুয়া যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তার আগে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত ফেনী রেলস্টেশন, ব্রাহ্মণপুকুর পাড় ও সরকারি কলেজের পেছনের সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন, কুমিল্লার লাকসামের মো. শুকুর প্রকাশ কানা শুক্কুর (২৬), ফেনী পৌরসভার বিরিঞ্চি এলাকার মো. আব্দুল মমিন (৪৬) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির কাউছার হোসেন আশিক (২৩)। পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরগামী একটি কাভার্ডভ্যান থেকে এক প্যাকেট অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্তে জাহাঙ্গীর আলম (৪১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবী ও মাদক কারবারি এবং চোর-ডাকাত চক্রের সদস্যসহ মোট ২১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শিগগিরই অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। 

তারেক চৌধুরী/এনটি

বিজ্ঞাপন