ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আড়াই মাস আগে রবিউলের ভাতিজা কলেজছাত্র সুমন শেখকেও (২৪) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার রবিউল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি পাশের গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রবিউলের সঙ্গে থাকা একই এলাকার মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে মোক্তার বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে কাশিয়ানী সদর বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে রবিউল একই এলাকার আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তারা কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর আঘাত করে। এতে রবিউল ঘটনাস্থলেই মারা যান। হামলায় তার সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মাসুদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কেন এ ঘটনা ঘটলো, এর কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গার বড়ভাগ গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের সঙ্গে সুমন শেখের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৭ জুন বিকেলের দিকে কাশিয়ানী থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে অপরপক্ষের দ্বারা রবিউলের ভাতিজা সুমন শেখকে হত্যার পর এলাকার পরিস্থিতি থমথমে হয়ে পড়ে।
এরপর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অবাধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা ঘটায় সুমনের পক্ষের লোকজন। তারা প্রতিপক্ষের ঘরবাড়ি, ঘরের দেওয়াল, ঘরের জানালা ভেঙে ফেলে। দরজা, টিভি, ফ্রিজ, সোফা, জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙে ফুটো করে দেয় ইটের তৈরি পাকা বাড়ির ছাদ।
এলাকাবাসী জানায়, সুমনের মৃত্যুর পর ১০ থেকে ১৫ দিন দিনে ও রাতে দফায় দফায় ভাঙচুর ও লুটপাটের এসব ঘটনা ঘটে। ওই সময় অন্তত ১০টি বাড়িতে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানো হয়। এর মাস দুয়েক পর এসে আজকের এ ঘটনা ঘটলো।
জহির হোসেন/এনটি
