অনলাইনে জুয়া খেলে হারিয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নষ্ট হয়েছে সঞ্চয়, সম্পদ; ভেঙে পড়েছে সংসারের আর্থিক ভিত্তি। শেষ পর্যন্ত নিজের ভুল বুঝতে পেরে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিলেন খাগড়াছড়ির রামগড়ের যুবক মো. সজিব (২৫)। প্রকাশ্যে প্রায় ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে সব ধরনের জুয়া ছেড়ে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘটে এ ঘটনা। পরে দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
সজিব রামগড় উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের লামকুপাড়া গ্রামের নুরুন নবীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বসে নিজের শরীরে দুধ ঢেলে গোসল করছেন সজিব। এ সময় নিজের জীবনে জুয়ার ভয়াবহ প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে তার সংসার ও আর্থিক অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। জুয়ার পেছনে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হারিয়ে বর্তমানে তিনি নিঃস্ব বলেও জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সজিব। জুয়ায় একের পর এক অর্থ খরচ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে তার সঞ্চয় ও সম্পদ শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।
এরপর নিজের ভুল বুঝতে পেরে শনিবার দুপুরে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া থেকে পুরোপুরি সরে আসার প্রতিজ্ঞা করেন তিনি।
রামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, জুয়ার কারণে ছেলেটি সব হারিয়েছে। ভুল বুঝতে পেরে সে এ পথ থেকে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছে। এখন যদি সত্যিই সে জুয়া ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, সেটাই তার, তার পরিবার ও এলাকার জন্য ভালো।
আবদুল মান্নান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করা সহজ নয়। তিনি যেন নিজের প্রতিজ্ঞায় অটুট থেকে ভালো পথে থাকেন, সেটাই প্রত্যাশা।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম বলেন, জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ সরাসরি হোক কিংবা অনলাইনে। এ বিষয়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মাদক ও জুয়া বিরোধী প্রচার-প্রচারণাও পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত চালানো হচ্ছে। জুয়ার নেশায় সর্বস্ব হারানোর পর সজিবের এই ব্যতিক্রমী শপথ স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তার এই প্রতিজ্ঞা কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
মোহাম্মদ শাহজাহান/ এনটি
